অনলাইন প্রাইভেসির বিষয়ে কম লোকেই জানেন তাদের তথ্য ও ডেটা কীভাবে রক্ষা করবেন। তাই আমরা এই আর্টিকেল তৈরি করেছি। এখানে সবার জন্য কিছু বেসিক প্রাইভেসি অভ্যাস আলোচনা করা হবে — HTTPS-এর গুরুত্ব থেকে সোশ্যাল মিডিয়া অভ্যাস, এনক্রিপশন পর্যন্ত সবকিছু! এই তালিকা চূড়ান্ত নয়। ইন্টারনেটের বিবর্তন সাথে এই তালিকায় যোগ করা বা নতুন তালিকা বানানো দরকার হতে পারে।weichurnal প্রাইভেসি টিপস কমেন্টে যোগ করুন!
১. HTTPS অফার না করা ওয়েবসাইটে আস্থা রাখবেন না
ওয়েবসাইটগুলো হ্যাকিং বা স্নুপিং (snooping)-এর প্রতি সবসময় ব্লনারবল (vulnerable) হয়ে যাচ্ছে, তাই HTTPS মোড অফার না করা ওয়েবসাইট এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ। রেগুলার HTTP ব্যবহার করলে আপনি ওয়েবসাইটে যে তথ্য দেন সেটি আপনার জানতে পারা ছাড়া সহজে চুরি হয়ে যেতে পারে। HTTPS এনক্রিপশন থাকলে এটা সম্ভব নয়।
চিন্তা নেই, প্রতিটি ওয়েবসাইট খনন করে HTTPS-এ ফোর্স করার দরকার নেই। Electronic Frontier Foundation-এ HTTPS-Everywhere নামে একটি ব্যবহারিক ব্রাউজার এক্সটেনশন বানিয়েছে। এটি কী করে? ওয়েবসাইটে HTTPS থাকলে সেটি বাধya করে HTTPS ব্যবহার করতে। মেনস্ট্রিম ব্রাউজারগুলোর জন্য এই লিংক ফলো করে ইনস্টল করুন।
২. সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করবেন না
সোশ্যাল মিডিয়া এক অদ্ভুত জিনিস। এর মাধ্যমে আপনি এক ক্লিকে বিভিন্ন দেশের বন্ধুদের সাথে ভিন্ন ভাষায় কানেক্ট করতে পারেন। তবুও, এই নতুন মিডিয়ার একটি খামি রয়েছে। আপনি যখন হোম ফোন নম্বর, ঠিকানা বা অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করেন, তবে আপনার বন্ধুরা মাত্র সেটি দেখবে না।
এই সমস্যাটি সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলের প্রাইভেসি সেটিংস পরিবর্তন করে সহজে এড়ানো যায়, কিন্তু এখানে যে মেঞ্জালিটি ঠিক করার দরকার সেটি হয় না। আপনার প্রোফাইল সিকিউর থাকলেও, অনলাইনে কখনো ব্যক্তিগত ডিটেইল শেয়ার করবেন না।
৩. ব্রাউজারে "Do not track mode" অন করুন
বিজ্ঞাপন। ইন্টারনেটকে চালিত রাখে। বিজ্ঞাপন না থাকলে অনেক ওয়েবসাইটকে সিরিয়াস ফান্ডিং সমস্যা হতো। কিন্তু ইন্টারনেট বিজ্ঞাপনের সাথে একটা মজার জিনিস জড়িত। এগুলো দ্রুত ইউজার আচরণ মনিটর করছে এবং ডেটা সংগ্রহে খুব কুচ্চিত (creepy) হয়ে যাচ্ছে।
এটি শুধু বিজ্ঞাপন নয়। কখনো ফেসবুক "Share" বা "Like" বাটন দেখেছেন? সম্ভবত মার্ক জুকারবার্গ এবং তার বন্ধুরা ঠিক জানতেন আপনি কোন ওয়েবসাইটে আছেন এবং আপনার ব্রাউজিং এক্টিভিটি প্যাসিভলি ট্র্যাক করতেন। সব শুধু ফেসবুকে অ্যাড সার্ভ করার জন্য। অন্য সোর্সগুলোর জন্যও একই অবস্থা।
এই 이유로 আপনার ওয়েব ব্রাউজারের "Do not track" অপশন অন করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় সব মেনস্ট্রিম ব্রাউজারেই এই সেটিং থাকে। এটি অন করলে ওয়েবসাইটগুলো বিভিন্ন টেকনোলজি দিয়ে আপনার এক্টিভিটি ট্র্যাক করতে কঠিনাই মোকাবিলা করবে।
৪. "রিওয়ার্ডস" বিনিময়ে ব্যক্তিগত তথ্য চায় এমন সাইট থেকে দূরে থাকুন
অনলাইনে অনেক মার্কেটিং ও রিসার্চ সেন্টার লোকজনের মতামত চায় রিওয়ার্ডস, ক্যাশ, বা সোয়েপস্টেক্স এন্ট্রির বিনিময়ে। কখনো কখনো প্রশ্নগুলো সাধারণ, কিন্তু অনেক সময় খুব ইনভেসিভ (invasive) — আপনার জন্য কম রিওয়ার্ড বা বেনিফিট ছাড়া।
আপনার ব্যক্তিগত তথ্য বা আইডেন্টিটির সাথে জড়িত যেকোনো জিনিস দিতে হিচকিচান, কারণ এই টাইপের ওয়েবসাইটের ট্রাস্টওয়ারথিনেস (trustworthiness) ভেরিফাই করা খুব কঠিন। কেস করা যায় কিছু সাইট ট্রাস্টওয়ারথি, কিন্তু নিয়ম হিসেবে এগুলো এড়িয়ে চলা ভালো।
৫. আপনার ওয়েব প্রেজেন্স সিকিউর রাখুন
ওয়েব ব্যবহার করার সময় আপনার অনলাইন ইন্টারঅ্যাকশন যতটুকু সম্ভব সিকিউর রাখার সব স্টেপ নিন। এতে সিম্পল স্টেপস থেকে শুরু করে: টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন সেট আপ করুন টুইটার, গুগল, বা ফেসবুক একাউন্টে; ব্রাউজার এক্সটেনশন ইনস্টল করুন (Privacy Badger বা Disconnect); লাস্টপাস (LastPass)-এর মতো সার্ভিস ব্যবহার করুন আরও সুরক্ষিত ও জটিল পাসওয়ার্ড জেনারেট করার জন্য।
৬. অপারেটিং সিস্টেম বা ডেটায় এনক্রিপশন ব্যবহার করুন
এনক্রিপশন সিকিউর ও প্রাইভেট থাকার জন্য খুব কার্যকর টেকনোলজি। আপনি ফোন, ডেটা, বা কম্পিউটার এনক্রিপ্ট করুন — মেসেজ স্পষ্ট। আপনার ডিভাইস ও ডেটা এনক্রিপ্ট থাকলে সেগুলো বেশি প্রাইভেট। স্নুপার বা হ্যাকার আপনার কাছ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য বের করতে অনেক কঠিনाई মোকাবিলা করবে যদি আপনার জিনিসগুলো চাবি দিয়ে লক করা থাকে।
উপসংহার
ইন্টারনেটে ইউজার প্রাইভেসি হয়তো টপ প্রায়োরিটি নয়, কিন্তু এতে কোনো সন্দেহ নেই যে সেটি হওয়া উচিত। আশা করি এই আর্টিকেল আপনাকে কিছু সুপারিশ বিবেচনা করতে সাহায্য করবে এবং আপনার অনলাইন অভিজ্ঞতাকে আরও প্রাইভেট ও সিকিউর করতে সাহায্য করবে।