বর্তমানে অনেক নর্টন ৩৬০ ব্যবহারকারী রেজিস্ট্রি ক্লিনআপ ত্রুটির সম্মুখীন হচ্ছেন। এই সমস্যার সঠিক সমাধান জানেন কম লোকেই। এখানে আপনি নর্টন ৩৬০ রেজিস্ট্রি ক্লিনআপ ত্রুটি সমাধানের সকল সম্ভাব্য উপায় পাবেন।
এই ত্রুটি সাধারণত সিস্টেম সেটিং-এর ভুল কনফিগারেশন বা উইন্ডোজ রেজিস্ট্রিতে অপ্রাসঙ্গিক এন্ট্রির কারণে হয়। আপনার ডিভাইসে এই ত্রুটি দেখা দিলে নিচের সমাধানগুলো অনুসরণ করুন।
নর্টন ৩৬০ রেজিস্ট্রি ক্লিনআপ ত্রুটির কারণসমূহ
নর্টন ৩৬০ রেজিস্ট্রি ক্লিনআপ ত্রুটির পেছনে বহু কারণ থাকতে পারে। সংক্ষেপে তালিকাভুক্ত করা হলো:
- নর্টন প্রোগ্রামের করাপ্ট ডাউনলোড বা ভুল ইনস্টলেশন।
- নর্টন সফটওয়্যারের জন্য উইন্ডোজে অনিয়মিত পরিবর্তন।
- ভাইরাসের কারণে উইন্ডোজ সিস্টেম ফাইল করাপ্ট হওয়া।
- অন্য কোনো প্রোগ্রামের হস্তক্ষেপের কারণে রেজিস্ট্রি ক্লিনআপ ত্রুটি।
নর্টন ৩৬০ রেজিস্ট্রি ক্লিনআপ ত্রুটি সমাধানের পদ্ধতিসমূহ
রেজিস্ট্রিতে ম্যানুয়াল পরিবর্তন আনার আগে রেজিস্ট্রি মডিফাই বা ক্লিন আপ করা জরুরি। এটি আপনার ডিভাইসের পারফরম্যান্স অপ্টিমাইজ করবে।
উদাহরণস্বরূপ, কোনো অ্যাপ্লিকেশন আনইনস্টল করলে সেটি রেজিস্ট্রিতে থাকতে পারে, যা সিস্টেমকে অকার্যকর করে তোলে। নিচে ধাপে ধাপে সমাধান দেওয়া হলো:
সমাধান ১: রিস্টোর পয়েন্ট তৈরি করুন
সবচেয়ে প্রথমে আপনাকে "রিস্টোর পয়েন্ট তৈরি" করতে হবে। এর মাধ্যমে আপনি সিস্টেম রিস্টোর করতে পারবেন: Start → All Programs → Accessories → System Tools → System Restore।
ধাপ ১: সার্চ বক্সে create a restore point লিখে সার্চ ফলাফল থেকে ক্লিক করুন।

ধাপ ২: এখন System Properties বক্স দেখাবে। সেখান থেকে System Protection ট্যাব নির্বাচন করে Create বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৩: রিস্টোর পয়েন্টের বিবরণ যোগ করুন (যেমন: "Before Registry Cleanup") এবং Create ক্লিক করুন।

যদি রিস্টোর পয়েন্ট তৈরি না হয়, তবে ডিস্ক স্পেস বাড়িয়ে আবার চেষ্টা করুন। রিস্টোর পয়েন্ট সফল হলে রেজিস্ট্রি ক্লিনআপ চালান। আপনি উইন্ডোজ সিস্টেম রিস্টোর নিষ্ক্রিয় করে রেজিস্ট্রি ম্যানুয়ালি ব্যাকআপও নিতে পারেন।
সমাধান ৩: উইন্ডোজ সিস্টেম রিস্টোর বন্ধ করুন
উইন্ডোজ ডিফেন্ডার ত্রুটি সমাধান এবং সিস্টেম রিস্টোর বন্ধ করা আলাদা প্রক্রিয়া। সিস্টেম রিস্টোর বন্ধ করার ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো:
ধাপ ১: সার্চ বক্সে control panel লিখুন।

ধাপ ২: System & Security >> System >> System Protection এ যান।

ধাপ ৩: Local Disk নির্বাচন করে Configure ক্লিক করুন।

ধাপ ৪: Disable System Protection নির্বাচন করে Apply ক্লিক করুন।

ধাপ ৫: কনফার্মেশন বক্স থেকে Yes এবং OK ক্লিক করুন।

সমাধান ৪: গ্রুপ পলিসি দিয়ে সিস্টেম রিস্টোর নিষ্ক্রিয় করুন
ধাপ ১: সার্চ বক্সে Edit Group Policy লিখুন।

ধাপ ২: নেভিগেট করুন: Computer Configuration >> Administrative Templates >> System >> System Restore।

ধাপ ৩: Turn Off System Restore এ ডাবল ক্লিক করুন।

ধাপ ৪: Disabled নির্বাচন করে OK ক্লিক করুন।

সমাধান ৫: উইন্ডোজ রেজিস্ট্রি ব্যাকআপ নিন
রেজিস্ট্রি ব্যাকআপ নিতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
ধাপ ১: সার্চ বক্সে Regedit লিখে Registry Editor খুলুন।

ধাপ ২: ইউজার অ্যাকাউন্ট কন্ট্রোল আসলে Continue ক্লিক করুন।
ধাপ ৩: ফাইল মেনু থেকে Export ক্লিক করুন।

ধাপ ৪: ফাইল নাম দিন (যেমন: Registry Backup)।

ধাপ ৫: সংরক্ষণের লোকেশন নির্বাচন করুন।
ধাপ ৬: Save ক্লিক করুন।
নোট: ব্যাকআপ ফাইল এক সপ্তাহ ধরে রাখুন, তবে নিশ্চিত হোন যে পরিবর্তনগুলো কোনো সমস্যা সৃষ্টি করছে না।
সমাধান ৬: রেজিস্ট্রি ক্লিনআপ চালান
রেজিস্ট্রি ক্লিনআপ চালানোর ধাপগুলো:
- নর্টন ৩৬০ খুলুন।
- Tasks এ ক্লিক করুন।
- Run Scans ক্লিক করুন।
- Let me Choose নির্বাচন করে GO ক্লিক করুন।
- শুধু Registry Cleanup চেক করা আছে কিনা নিশ্চিত করুন।
- GO ক্লিক করুন।
- ক্লিনআপ সম্পন্ন হলে Close ক্লিক করুন।
সমাধান ৭: অ্যান্টিভাইরাস আপডেট করুন এবং লেটেস্ট উইন্ডোজ আপডেট ডাউনলোড করুন
ভাইরাস সংক্রমণের কারণে রেজিস্ট্রি ত্রুটি হতে পারে। অ্যান্টিভাইরাস আপডেট করে ফুল সিস্টেম স্ক্যান করুন।
ধাপ ১: ডিস্ক ক্লিনআপ চালান। কম ফ্রি স্পেস থাকলে রানটাইম ত্রুটি হতে পারে।
ধাপ ২: ফাইল ব্যাকআপ নিয়ে হার্ড ড্রাইভে জায়গা খালি করুন।
ধাপ ৩: ক্যাশ ক্লিয়ার করে সিস্টেম রিবুট করুন।
ধাপ ৪: এক্সপ্লোরার খুলে প্রাইমারি ড্রাইভে রাইট ক্লিক করুন।
ধাপ ৫: Properties → Disk Cleanup ক্লিক করুন।
উইন্ডোজ আপডেট করতে:
ধাপ ১: Start → Settings ক্লিক করুন।

ধাপ ২: Update & Security >> Windows Update ক্লিক করুন।

ধাপ ৩: Download বাটনে ক্লিক করুন। আপডেট ডাউনলোড হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

ধাপ ৪: ডাউনলোড 완রোপরান্ত Restart করুন।
উপরোক্ত পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে নর্টন ৩৬০ রেজিস্ট্রি ক্লিনআপ ত্রুটি সমাধান করুন। যদি সমস্যা থাকলে আমাদের সাথে চ্যাটের মাধ্যমে যোগাযোগ করুন।
শেষ কথা:
উপরের ধাপগুলো নর্টন ৩৬০ রেজিস্ট্রি ক্লিনআপ ত্রুটি সমাধান করতে সাহায্য করবে। যদি সমাধান না হয়, তবে আমাদের সাথে চ্যাটে যোগাযোগ করুন, আমরা ২৪/৭ উপলব্ধ।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
প্রশ্ন ১: রেজিস্ট্রি থেকে নর্টন ভাইরাস সম্পূর্ণরূপে কিভাবে মুছবেন?
উত্তর: নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
- Ctrl + F চাপুন এবং "Norton" টাইপ করুন।
- সার্চ ফলাফল পাওয়া যাবে।
- Delete কী চাপুন এবং Enter দিন।
- Confirm Key Delete বক্স আসলে পুনরাবৃত্তি করুন।
- OK ক্লিক করুন।
প্রশ্ন ২: নর্টন ৩৬০-এ ফাইল কিভাবে রিস্টোর করবেন?
উত্তর: ধাপগুলো:
- নর্টন চালু করুন।
- Advanced এ যান।
- Quarantine ক্লিক করুন।
- Security History উইন্ডো খুলুন।
- কোয়ারেন্টাইন করা ফাইলগুলো দেখতে পাবেন। যেটি রিকভার করতে চান সেটিতে রাইট ক্লিক করুন।
- Options → Threat Detected Window খুলুন।
প্রশ্ন ৩: নর্টন সিকিউরিটি স্ক্যান স্থায়ীভাবে কিভাবে মুছবেন?
উত্তর: ধাপগুলো:
- Norton Remove and Reinstall টুল ডাউনলোড করুন।
- ডেস্কটপে সেভ করুন।
- Ctrl + J চাপে ডাউনলোড উইন্ডো খুলুন।
- NRnR আইকনে ডাবল ক্লিক করুন।
- লাইসেন্স এগ্রিমেন্ট পড়ে Agree ক্লিক করুন।
- Advanced Options → Remove Only → Remove ক্লিক করুন।
- Restart Now ক্লিক করুন।
প্রশ্ন ৪: নর্টন আনইনস্টল করে আবার ইনস্টল করা সম্ভব কি?
উত্তর: হ্যাঁ, সম্ভব। নিচের পদ্ধতিটি অনুসরণ করুন:
- Norton Remove and Reinstall টুল ডাউনলোড করুন।
- Ctrl + J চাপে ডাউনলোড উইন্ডো খুলুন।
- NRnR আইকনে ডাবল ক্লিক করুন।
- লাইসেন্স এগ্রিমেন্ট স্বীকার করুন।
- Remove and Install → Continue ক্লিক করুন।
- ডিভাইস রিস্টার্ট করুন।
প্রশ্ন ৫: নর্টনের সবচেয়ে র’emove কিভাবে করবেন?
উত্তর: ধাপগুলো:
- Start-এ রাইট ক্লিক → Programs and Features।
- নর্টন অ্যান্টিভাইরাস খুঁজুন।
- হাইলাইট করে Uninstall/Change ক্লিক করুন।
- ইন্টিগ্রেটেড আনইনস্টলার খুলবে।
- দুটি অপশন পাবেন:
- সেটিংস সংরক্ষণ করে রি-ইনস্টলেশন।
- সম্পূর্ণরূপে আনইনস্টল।
প্রশ্ন ৬: ম্যালওয়্যার কিভাবে শনাক্ত করবেন?
উত্তর: ম্যালওয়্যারের লক্ষণগুলো:
- হঠাৎ পপ-আপ এবং ইনভেসিভ বিজ্ঞাপন।
- অস্বাভাবিক ডেটা ব্যবহার।
- ব্যাটারি দ্রুত ড্রেন হওয়া।
- কন্ট্যাক্ট লিস্টের লোকরা আপনার ফোন থেকে অজানা কল/টেক্সট পাওয়ার শিকায়ত করলে।
প্রশ্ন ৭: নর্টন কম্পিউটার ধীর করে দেয় কি?
উত্তর: নর্টন সাধারণত তখন ধীর হয় যখন অন্য অ্যান্টিভাইরাস ব্যাকগ্রাউন্ডে চলছে। দুটোই একসাথে রান করলে স্ক্যানিং কনফ্লিক্টের কারণে সিস্টেম মেমরি বেশি ব্যবহার করে এবং ডিভাইস ধীর হয়।