ভূমিকা
"কল্পনা বুদ্ধির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।" ~ আলবার্ট আইনস্টাইন
সাম্প্রতিক প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন বিজ্ঞান কল্পনা ও ফ্যান্টাসির অনেক কিছু বাস্তবে পরিবর্তন করেছে। তার উপরে, প্রযুক্তি বিশ্বে এতো নতুন উন্নতি হয়েছে যে সাইন্স ফিকশন (science fiction)-কেও লজ্জিত করতে পারে। যদিও এগুলো এখনো কনসেপচুয়াল ডিজাইন стадииয়ে আছে, সবাই এর সাথে বড় আশা রেখেছে। সাইন্স ফিকশন সিনেমার যেনসই গ্যাজেটগুলো বাস্তবে পরিবর্তিত হয়ে উঠেছে তা দেখে উত্সাহিত না হওয়া কঠিন!
এই ব্লগে আমরা কিছু অনন্য উদ্ভাবনী গ্যাজেটের কথা বলব যেগুলো কনসেপচুয়াল ডিজাইন স্টেজে থাকলেও অसीম সম্ভাবনা রাখে।
১. সাইবারনেটিক কন্টাক্ট লেন্স দিয়ে বায়নিক ভিশন (Bionic Vision with Cybernetic Contact Lenses)
তালিকার প্রথম ফিউচারিস্টিক কনসেপ্ট গ্যাজেট চশমা ধরি বা খারাপ দৃষ্টি সমস্যা থেকে আক্রান্ত মানুষের জন্য বরদানের মতো। বায়নিক সাইবারনেটিক কন্টাক্ট লেন্স চশমা অপ্রাসঙ্গিক করে দিতে পারে এবং আপনার দৃষ্টিশক্তি বড়িয়ে তুলতে পারে।
কানাডার একটি অপটোমেট্রিস্ট (optometrist) আবিষ্কৃত 'Ocumetics Bionic Lens' সাধারণ দৃষ্টির মানদণ্ডের চেয়ে বেশি দৃষ্টিশক্তি দিতে পারে বলে দাবি করে। এটি সাধারণ লেন্সের মতো পপ-ইন-আউট টাইপ নয়, গারেথ ওয়েব (Gareth Webb) দ্বারা উন্নত এটি একটি বেদনাহীন প্রসেসের মাধ্যমে চোখের ভিতরে প্রবেশ করানো যায়। এই লেন্সগুলো সময়ের সাথে ডিগ্রেড (degrade) হয় না, তাই ক্যাটার্যাক্ট (cataracts) বা দৃষ্টিশক্তি হ্রাস সমস্যা থেকে জীবনপর্যন্ত মুক্তি।
২. মস্তিষ্ক দিয়ে কন্ট্রোলযোগ্য গেম (Games You Control With Your Brain)
কখনো চিন্তা করেছেন ভবিষ্যের গেমিং কী হবে? একটা নিশ্চিত—ভবিষ্যতের গেমে আপনাকে গেম কন্ট্রোলারের সাথে বাস্তব গতি করা লাগবে না, বরং শান্তভাবে বসে মনোযোগ দিয়ে মস্তিষ্ক ব্যবহার করতে হবে।
এই ফাংশনিং EEG (ইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রাফি) টেকনোলজি দিয়ে হয়, যা হাসপাতালে ব্রেইনওয়েভ মাপতে ব্যবহৃত হয়। এখন এই প্রযুক্তি 'মাইন্ড কন্ট্রোলড গেমস' (Mind Controlled Games) আকারে কনসিউমার মার্কেটে প্রবেশ করেছে এবং শীঘ্রই হ্যান্ড-হেল্ড কন্ট্রোলারযুক্ত গেমের সব কাজ করা যাবে। কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যে এই ফিল্ডে গ্যাজেট ডেভেলপ শুরু করেছে।
ম্যাটেল (Mattel) কোম্পানি 'মাইন্ডফ্লেক্স' (Mindflex) নামক একটি গ্যাজেট বানিয়েছে—এটি একটি মজার হেডসেট যা গেম খেলার সময় মাথায় ধরা লাগে। কঠোর মনোযোগ দিলে বয়েলটি উচ্চতরে উড়বে কারণ কনস্ট্রেশন থেকে কনসোলের ফ্যান দ্রুত ঘুরে। মন শিথিল করলে ফ্যান স্পিড কমে যাবে এবং বয়েল নিচে আসবে।
৩. বর্ষার জল চালিত ম্যানহোল দিয়ে দিকনির্দেশনা (Directions from Rainwater Powered Manhole)
এটিকে 'ইকো সাইন' (Eco Sign) ও বলা যায়। চेओল ইওন জো (Cheol Yeon Jo) এবং ইউংসুন লি (Youngsun Lee) এই কনসেপ্ট দিয়েছেন, যা খুব চমৎকার। উদ্দেশ্য ছিল सर्वত্র موجودة শহری বস্তুকে পাবলিক ট্রান্সপোর্টের লোকেশন জানাতে দিকনির্দেশনা সাইনবোর্ডে পরিবর্তন করা।
ম্যানহোল (manhole) হলো একে আকস্মিক শহরি বস্তু যা সহজে দিকনির্দেশনা সাইনে বদলে যেতে পারে। দিক জানতে চাইলে শুধু এক পাশে চাপ দিন—এটি আপনাকে নিকটতম সাবওয়ে বা বাস স্টেশন বা তার দূরত্ব জানাবে। ডিভাইসটি বর্ষার জল দ্বারা চালিত হয়, তাই শহরের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে না। এটি পর্যটকদের জন্য খুব কার্যকর হতে পারে এবং ম্যাপে পেজান হয়ে পড়া থেকে বাঁচাবে। ইকো সাইন (Eco Sign) নতুন শহরে এসে পৃথক সাইনবোর্ড বানাতে শহরি কাঠামো ব্যবহার করতে পারে।
৪. মস্তিষ্ক চালিত প্রাস্থেটিক লিম্বস (Prosthetics Limbs Powered by the Mind)
আজকে অনেক মানুষ প্রাস্থেটিক (prosthesis) প্রযুক্তির আভারি, কারণ এটে তাদের বাসা ও অফিসে ঘুরে ফিরার স্বাধীনতা ফেরত দিয়েছে। এই প্রযুক্তির পরবর্তী উন্নতি হলো মস্তিষ্কের চিন্তা দিয়ে প্রাস্থেটিক লিম্ব কন্ট্রোল করা।
ক্রিস্টিয়ান ক্যান্ডলবাউয়ার (Christian Kandlbauer) এর নাম শুনেছেন কি? কাজের সময় দুর্ঘটনায় দুটি হাত হারিয়েছেন। এখন у নിക്കে দুটি হাই-টেক প্রাস্থেটিক আর্ম আছে যাতে সে স্বাভাবিক হাতের মতোই কাজ করতে পারেন। আর্ম দুটি অটো বক (Otto Bock) হেলথকেয়ার কোম্পানি এবং ভিয়েনা মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (Medical University of Vienna) যৌথভাবে তৈরি করেছে। ক্যান্ডলবাউয়ারের হাতের স্নায়ু রি-ওয়্যার (re-wire) করতে হয়েছিল—হাত কন্ট্রোল করার স্নায়ুগুলো বুকে সরিয়ে দিয়ে ইলেকট্রনিক সেন্সর দিয়ে বায়নিক আর্ম কন্ট্রোল করতে সক্ষম করা হয়েছিল।
৫. ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ট্রেডমিল (Virtual Reality Treadmill)
ভিআর (VR) টেকনোলজির সাথে সবার বড় আশা ছিল—বড় হেলমেট এবং অসীম বিশ্ব যেন আমাদের সব ইন্দ্রিয়াকে ჩেনে নিতে পারবে। খরচ ও প্রযুক্তি—এই দুটি বাধায় কোম্পানিগুলো VR কনসেপচুয়ালাইজ করতে পারল না। তবুও অনেক কোম্পানি পটভূমিতে এই প্রযুক্তিতে কাজ করছে।
সাইবারওয়াক (Cyberwalk), একটি ইউরোপিয়ান রিসার্চ প্রজেক্ট, VR এনভায়রনমেন্টের চ্যালেঞ্জিং দিক 'লোকোমোশন' (Locomotion)-এর ওপর কাজ করছে। সাইবারওয়াক 'সাইবারকার্পেট' (CyberCarpet) তৈরি করেছে, যা একটি অমনি-ডিরেকশনাল ট্রেডমিল (omni-directional treadmill) এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি থেরাপি, ট্রেনিং, আর্কিটেকচার এবং গেমিং-এ বিপ্লব আনে। এই ট্রেডমিল ঘনভাবে ছোট ছোট বল প্যাক করে চলার সতহের নিচে রাখে এবং ব্যবহারকারীর জুতের ঘর্ষণ দিয়ে চলাচল করায়।
৬. অ্যাপল ব্ল্যাক হোল (Apple Black Hole) - বছরের হোলোগ্রাফিক ফোন
আপল থেকে সবসময় নতুন কিছু আশা করা যায়। এপল বর্তমানে যেই কনসেপ্টে কাজ করছে তা সাইন্স ফ্যান্টাসি থেকে নেওয়া একটি উদাহরণ।
অ্যাপল আইপ্যাডের সাথে একটি নতুন ফোন আসবে—'অ্যাপল ব্ল্যাক হোল' (Apple Black Hole)। এটি ৩ডি হোলোগ্রাফি টেকনোলজি দিয়ে ডিজাইন করা। এর ৪টি কম্পোনেন্ট: চার্জিং বেস, প্রিজম (Prism), ব্ল্যাক হোল এবং গিফটবক্স। মজার পার্ট হলো হ্যান্ডসেট ব্যবহারের পদ্ধতি—হাত খোললে এর সেন্ট্রাল বল লেভিটেট (levitate) করবে এবং সব ফাংশন হোলোগ্রাফিক টেকনোলজির সাহায্যে মধ্যবর্তী হয়ে থাকবে।
ফরাসি ডিজাইনার জোসেলিন জাওচ (Josselin Zaouche) এই ৩-ডি হোলোগ্রাফিক ইমেজ সহ ভার্চুয়াল টেকনোলজি ডিজাইন করেছেন। এর একটিcatchy হোলোগ্রাফিক স্ক্রিন আছে।
৭. গ্লাসি গ্লাসি ফোন (Glassy Glassy Phones)
টোকিও-ভিত্তিক ডিজাইনার ম্যাক ফুনামিজু (Mac Funamizu) আবার একবার মোবাইল ফোনের জন্য একটি নতুন ফ্লুইড কনসেপ্ট ডিজাইন নিয়ে এলেন। প্রাচলিত প্রযুক্তি সমন্বয় করে ফোনকে 'গ্লাসি গ্লাসি সেল ফোন কনসেপ্ট' (Glassy Glassy Cell Phone Concept) নামে একটি সুন্দর বস্তুতে পরিবর্তন করা হয়েছে।
ট্রান্সলুসেন্ট (translucent) মোবাইল ফোন কনসেপ্ট অপবাদ নয়, কিন্তু ডাবল লেয়ার গ্লাস শিল্ড এটিকে অবিশ্বাস্যভাবে স্লিক এবং ফিউচারিস্টিক ডিজাইন দিয়েছে। ফোনটি পুরোপুরি ট্রান্সপারেন্ট থাকে যতক্ষণ না অন করা হয়—অন করলে স্ক্রিন ও কীবোর্ড জ্বলিয়ে উঠে যাতে ব্যবহারকারী বোঝাতে পারেন।
৮. রিংেন হয়াচ (Ringen Watch)
ফরাসি ডিজাইনার মার্ক ট্রান (Marc Tran) 'রিংেন' (Ringen) নামে একটি লাক্সারি ওয়াচ কনসেপ্ট তৈরি করেছেন। এই লাক্সারি ঘড়ি সাদা সোনা (white gold) দিয়ে বানানো, স্ল্যাট এবং বল কালো ম্যাগনেটিক সেরামিক (black magnetic ceramic) দিয়ে। মার্ক ট্রান-এর ডিজাইন বলের সাঙ্কৃতিক গোলাকারতা, গেম এবং অটোমোটিভ আকৃতি থেকে প্রেরণা নেওয়া। পুরো মেকানিজম głównie চুম্বকীয় ক্ষেত্রের ওপর নির্ভরশীল।
ঘড়িটি অনন্যভাবে ডিজাইন করা—ঘণ্টা, মিনিট, সেকেন্ডের জন্য ৩টি আলাদা প্রেজেন্টেশন। ব্লু ডিস্ক (brushed anodized aluminum) ঘণ্টা দেখায়। এটি ডিজাইনের যুবক স্পর্শ। কালো সেরামিক স্ল্যাট মিনিট দেখায়—প্রতিটি স্ল্যাট ২ মিনিট প্রতিনিধিত্ব করে। ব্লু বল স্ল্যাটের ওপর হরাইজন্টাল প্রগ্রেশন দিয়ে সময় দেখায়। আরও একটি ব্লু সেরামিক বল ঘড়ির মুখে ওrbit করে সেকেন্ড দেখায়।
৯. ব্লু বি (Blue Bee)
কিংগ্যো (Kingyo) একটি খুব আকর্ষণীয়, সাদা এবং ইন্টুইটিভ হ্যান্ডসেট ইন্টারফেস তৈরি করেছে—'ব্লু বি' (Blue Bee) নামে, যা একটি স্লিম স্মার্টফোনের সাথে আসে। UI লুক উইন্ডোজ মোবাইল ৬.৫ (Windows Mobile 6.5) ইন্টারফেসের মতো। এর মূল প্রয়োজন বড় টাচস্ক্রিন, কোনো ফিজিক্যাল বাটন প্রয়োজন নেই।
এই কনসেপ্টের আকর্ষণীয় আইডিয়া হলো ফোনের পেছনে টাচপ্যাড রাখা। এই ফিউচারিস্টিক কনসেপ্ট ফোনে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং ফিচারের স্পেশাল ইন্টিগ্রেশন আছে এবং ফ্রন্ট সাইডকে সর্বোচ্চ ব্যবহার করার জন্য ফিজিক্যাল বাটন পেছনে ধাক্কা দিয়েছে।
মূল অনন্য ফিচার হলো 'ব্লু বি ব্যাক টাচ' (Blue Bee "Back touch") বাটন—যে প্রোগ্রাম করা আছে স্ক্রলিং, ওয়েবপেজে 'ফরওয়ার্ড' বা 'ব্যাক', ডাবল ট্যাপে হোম স্ক্রিনে ফেরত যাওয়া ইত্যাদি কাজ করার জন্য।
১০. সিয়াফু (Siafu): মেটামরফোসিং কম্পিউটার ইন্টারফেস
সিয়াফু (Siafu) একটি PC যা দৃষ্টিহীন বা দৃষ্টিবিধবল মানুষকে কম্পিউটারের אינ্টুইটিভ অভিজ্ঞতা দিতে ডিজাইন করা। এটি একটি ট্যাকটাইল কম্পিউটার ডিসপ্লে যা স্ট্যান্ডার্ড ব্রেইল (braille) ডিসপ্লে এবং একটি নতুন স্ক্রিনকে একসাথে জোড়া দিয়েছে যাতে টেক্সট, ব্রেইল এবং গ্রাফিক্স ৩-ডাইমেনশনাল রিলিফ (3-Dimensional relief)-এ প্রেজেন্ট করা যায়।
PC ট্যাবলেটের মতো ফ্ল্যাট থাকে এবং টাচ দিয়ে পূর্ণ ইন্টারঅ্যাকশন করা যায়। স্ক্রিন সারফেস একটি কনসেপচুয়াল মটেরিয়াল 'ম্যাগনেক্লে' (Magneclay) ব্যবহার করে—এটি একটি অয়েল-ভিত্তিক সিন্থেটিক এজেন্ট যা কন্ট্রোলড ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ডের মাধ্যমে যেকোনো আকারে নিজের আকার পরিবর্তন করতে পারে।
আরও পড়ুন: সিনియర్ সিটিজেনদের জন্য উদ্ভাবনী গ্যাজেট পার্ট ১
যদিও আর্টিকেলটি এখানেই শেষ করছি, তালিকা এখনো अधूरा। আগামী ব্লগগুলিতে আরও такие কনসেপচুয়াল গ্যাজেটের কথা বলব। নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন পরবর্তী ব্লগ ইনবক্সে পাওয়ার জন্য।