এক সময় ছিল যখন আপনার ক্লিক করা সব ফটোর হার্ড কপি পাওয়াতেই সম্ভব ছিল। কিন্তু আজকাল সময় অনেক変わって গেছে।
ডিজিটাল ফটোগ্রাফের অনেক সুবিধা রয়েছে। এগুলো চিরকাল অক্ষত রাখা যায়, যেকোনো জায়গা থেকে অ্যাক্সেস করা যায় এবং কোনো ফিজিক্যাল জায়গা আশ্রয় করছে না। তাই আস্তিন চুড়ে উঠিয়ে আপনার ফটোগুলো স্ক্যান করে চিরকালের জন্য সংরক্ষণ করুন। গুগল প্লে স্টোর এবং ম্যাক অ্যাপ স্টোরে স্ক্যানিং অ্যাপের অনেক বিকল্প রয়েছে, কিন্তু আপনার সুবিধার্থে আমরা আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েডের সেরা ফটো স্ক্যানার অ্যাপগুলো তালিকা করেছি।
আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েডের জন্য ১০টি সেরা ফটো স্ক্যানার অ্যাপ
১. গুগল ফটোস্ক্যান (Google PhotoScan)

এই অ্যাপটি গুগল দ্বারা বিকশিত। ফটো স্ক্যান করার সময় এটি একাধিক শট নেয়, ফলে চকচকে ছাড়া পরিষ্কার ছবি এবং সংশোধিত প্রান্ত সহ ফাইনাল স্ক্যান পাওয়া যায়। আপনি আপনার স্ক্যান করা ফটোগুলো বিনামূল্যে ক্লাউডে সংরক্ষণ করতে পারেন।
২. ফটোমাইন (Photomyne)

এটি খুব জনপ্রিয় অ্যাপ নয়, কিন্তু একসাথে একাধিক ফটো স্ক্যান করার ক্ষমতা এটিকে দুর্দান্ত করে তোলে। আপনি পুরনো অ্যালবাম থেকে একসাথে অনেক ফটো স্ক্যান করতে পারেন বা টেবিলের ওপর ফটোগুলো রাখে স্ক্যান করতে পারেন। অ্যাপটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আলাদা আলাদা ফটো চিনে সেগুলো অ্যালবামে সংরক্ষণ করে।
৩. টাইনি স্ক্যানার (Tiny Scanner)

সেরা ফটো স্ক্যানার অ্যাপের তালিকায় আরেকটি নাম টাইনি স্ক্যানার। এটি মূলত ডকুমেন্ট স্ক্যান করার জন্য ভালো, কিন্তু যদি লেখা সহ ফটোগ্রাফ স্ক্যান করেন তবে এটি সেরা কাজ করে কারণ এর OCR প্রযুক্তি লেখার মধ্যে থেকে ছবি খুঁজে বের করতে সাহায্য করে।
৪. ক্যামস্ক্যানার (CamScanner)

ক্যামস্ক্যানারের নাম সবাই জানেন—এটি সেরা ডকুমেন্ট স্ক্যানার অ্যাপ। যদিও এটি ডকুমেন্টে বিশেষজ্ঞ, ফটোগ্রাফ স্ক্যান করার জন্যও এটি ভালো কাজ করে। স্ক্যান করা ফটোকে সতুন্দর बनाने বিভিন্ন এডিটিং অপশন রয়েছে। পুরনো ডকুমেন্ট, চিঠি ইত্যাদি স্ক্যান করার জন্যও এটি উপযোগী।
৫. স্ক্যানবট (Scanbot)

আমার পছন্দের স্ক্যানিং অ্যাপের একটি। এর ইউজার-ফ্রেন্ডলি ডিজাইন খুব সহজে ব্যবহারযোগ্য। ক্যামেরা কাগজের দিকে করলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডকুমেন্ট বা ছবি স্ক্যান করে দেয়। এরপর আপনি স্ক্যানটি ক্রপ করতে পারেন। বিভিন্ন ব্রাইটনেস ও কন্ট্রাস্ট ইফেক্টের ভার্সন দেখায় যাতে আপনি সেরা বেছে নিতে পারেন।
৬. মাইক্রোসফট অফিস লেন্স (Microsoft Office Lens)

প্রখ্যাত মাইক্রোসফটের এই অ্যাপটি ডকুমেন্ট, ফটো এবং হোয়াইটবোর্ড স্ক্যান করার জন্য উপযোগী। আপনার স্টোর রুমে পুরনো চিত্রচিত্র থাকলে এদ্বারা সাবলীলে স্ক্যান করা যায়। যদি আপনি ওয়াননোট, ওয়ানড্রাইভ ইত্যাদি ব্যবহার করেন তবে সেখানে সরাসরি সংরক্ষণ করা যায়। আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েডের জন্য এটি সেরা ফটো স্ক্যানার অ্যাপের এক।
৭. ক্লিয়ার স্ক্যানার (Clear Scanner)

গ্রে-স্কেল ছবি হোক বা রঙিন ছবি—দুটোই স্ক্যান করার জন্য এটি সমানভাবে ভালো। অ্যাপ স্টোর এবং প্লে স্টোরে এটি বিনামূল্যে উপলব্ধ। স্ক্যান শেষে ছবিটি টিউন করতে পারেন।
৮. ফাস্ট স্ক্যানার (Fast Scanner)

ফটো স্ক্যান করার সবচেয়ে সহজ উপায়। এর মূল বৈশিষ্ট্য: প্রান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে এবং স্ক্যান কপির ব্রাইটনেস সংশোধন করে। একাধিক স্ক্যান ফোল্ডারে সংরক্ষণ করে সুন্দরভাবে পরিচালনা করা যায়।
৯. টার্বো স্ক্যান (Turbo Scan)

পিকসফটের টার্বো স্ক্যান একটি চমৎকার অ্যাপ। অ্যাপ স্টোর ও প্লে স্টোরে এর বিনামূল্য ও পেড ভার্সন আছে। সবচেয়ে ভালো লেগেছে এর স্ক্যান রেজাল্টের তীব্রতা। এছাড়া আপনি ইচ্ছামতো সাইজে স্ক্যান ফলাফল সংরক্ষণ করতে পারেন।
১০. শুবক্স (Shoebox)

ফটো স্ক্যানিং অ্যাপের মধ্যে শুবক্স একটি জনপ্রিয় নাম। এটি খুব ভালোভাবে ফটো স্ক্যান করে। এজ ডিটেকশন এবং পারস্পেক্টিভ করেকশন প্রযুক্তি রয়েছে। অন্য অ্যাপের মতো এখানেও স্ক্যান কোয়ালিটি ভালো। ফটো স্ক্যান করার পর আপনি লোকেশন, লোকজনকে ট্যাগ, ক্যাপশন এবং তারিখ যোগ করতে পারেন যাতে ফটোগুলো দ্রুত খুঁজে পাওয়া যায়।
এই ছিল আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েডের জন্য সেরা ফটো স্ক্যানার অ্যাপগুলো। এখন আপনার আইফোন বা অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসকে একটি স্ক্যানারে পরিবর্তন করে পুরনো স্মৃতিগুলো সুন্দরভাবে সংরক্ষণ করুন।
দ্রষ্টব্য: কিছু স্ক্যানিং অ্যাপ আইফোনের ৩ডি টাচ সাপোর্ট করে। আইফোন ৬ বা তার নিচের মডেলে ৩ডি টাচ পাবেন না। আইফোন ৬এস থেকে ৩ডি টাচ দিয়ে দ্রুত ছবি স্ক্যান করা সম্ভব।