আমরা দিনের বহু সময় কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা মোবাইল স্ক্রিনের সামনে কাটাই। কিন্তু কতবার আমরা চিন্তা করি যে এই স্ক্রিনগুলো আমাদের চোখের জন্য কতটুকু ক্ষতিকর হতে পারে? خوشবשתে, চোখের তনাব (Digital Eye Strain) প্রতিরোধের অনেক সহজ উপায় রয়েছে, যা আপনি দৈনন্দিন জীবনে সহজে প্রয়োগ করতে পারেন।
১. ২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চোখের ব্যায়াম করুন
এটি শুনতে জটিল লাগতে পারে, কিন্তু আসলে খুব সহজ। প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিন তাকানোর পর ২০ সেকেন্ডের জন্য কমপক্ষে ২০ ফুট দূরত্বে কোনো বস্তু তাকান। চোখের বিশেষজ্ঞরা এটাকে "২০-২০-২০" পদ্ধতি বলেন। এটি স্ক্রিনে দীর্ঘদৃষ্টি গড়াতে থাকার ফলে চোখের পেশিতে তৈরি চাপ বাড়িয়ে দেয়।
আপনার সামনে ২০ ফুট দূরত্বে কোনো বস্তু না থাকলে, এই সময়টি ব্যবহার করে একটু হাঁটাফিরা করুন। সারাদিন বসে কাজ করা শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর, সুতরাং এটি আপনাকে একই সাথে চোখের বিশ্রাম এবং শারীরিক গতিবিধি উভয়ই দেবে।
২. মনিটরের আলোকাণু চোখের উপযোগী করুন
মনিটর থেকে নির্গত আলোর तीক্ষ্ণতা কমানো চোখের তনাব কামাতে বড় ভূমিকা পালন করে। উইন্ডোজ ১০-এ 'নাইট লাইট' মোড রয়েছে, আবার f.lux নামক সফটওয়্যারও একই কাজ করে।
অনেক আধুনিক মনিটরে চোখের সুবিধার জন্য আলাদা সেটিংস থাকে। উদাহরণস্বরূপ, ফিলিপসের 'লো ব্লু মোড', বেনকিউর 'লো ব্লু লাইট মোড' এবং এইচপির 'ব্লু লাইট ফিল্টার'। এই সব ফিচার মনিটর লেভেলেই নীল আলোর तीক্ষ্ণতা কমানো করে চোখের রক্ষা করে।
৩. ব্লু লাইট ফিল্টারিং গ্লাস ব্যবহার করুন
আপনি যদি চশমা ব্যবহার করেন, তবে কেন না তা চোখের তনাব প্রতিরোধকক্ষম করে তুলুন? বাজারে ব্লু লাইট ব্লক করার বিশেষ লেন্স যুক্ত চশমা পাওয়া যায়, যা মনিটরের চকाचক থেকে আপনার চোখকে সুরক্ষিত রাখে।
৪. মনিটরের দূরত্ব এবং কোণ ঠিক রাখুন
মনিটরকে চোখ থেকে ৪০ থেকে ৭৬ সেনটিমিটার (প্রায় ১৬ থেকে ৩০ ইঞ্চি) দূরত্বে রাখুন। মনিটরের উপরের কিনারা চোখের সমতলে বা একটু নিচে থাকা উচিত এবং স্ক্রিনটি আপনার দিকে থেকে একটু ঝুকে থাকা ভালো। এই পজিশন চোখে টেক্সট পড়ার সময় হয়ে যাওয়া চাপ কমিয়ে দেয়।
৫. বেশি পলক ঝপকান
এটি বলা সহজ কিন্তু করা কঠিন—বিশেষ করে প্রিয় সিরিয়াল দেখতে বা গেমিং করার সময়। স্ক্রিন তাকানোর সময় আমরা স্বাভাবিকতর কম পলক ঝপকি, ফলে চোখ শুকনো হয়ে যায়। সচেতনভাবে বারবার পলক ঝপকিয়ে চোখে আর্দ্রতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
৬. মনিটরে জ্বলন/গ্লেয়ার কমানো
আপনি সূর্য বা তীব্র আলোকে সরাসরি তাকাবেন না, কিন্তু এর প্রতিবিম্ব যদি মনিটরে পড়ে, তখন আপনি ঘন্টার পর ঘন্টা সেটি তাকিয়ে থাকেন। যেকোনো আলোযন্ত্র বা জানালার আলো মনিটরে প্রতিফলিত হচ্ছে কিনা যাচাই করুন। অতিরিক্ত আলো চোখে যেন প্রয়োজনীয় চাপ দেয়, পড়ার বিষয়গুলো ও স্পষ্ট দেখা যায় না, ফলে চোখে বেশি তনাব সৃষ্টি হয়।
চোখের যত্ন, আপনার হাতে
প্রায় সবাইই প্রতিদিন মনিটর ব্যবহার করি, কিন্তু কিছু মানুষই এর চোখের ওপর প্রভাব নিয়ে সচেতন হন। এখন আপনি জানেন স্ক্রিন কীভাবে চোখকে ক্ষতি পৌঁছাতে পারে এবং সেটি কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়।
আপনি কি কখনো মনিটর ব্যবহার করার কারণে চোখের তনাব অনুভব করেছেন? সমস্যা সমাধান করার জন্য আপনি কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন? নিচে মন্তব্য করে আমাদের জানান।