জানুয়ারি ২০২০-এ নতুন মাইক্রোসফট এজ রিলিজ হয়ে ক্রোম দ্বারা নির্ধারিত আদর্শ ব্রাউজার মানদণ্ড ভাঙতে দিয়েছে। মাইক্রোসফটকে ওপেন-সোর্স ক্রোমিয়াম বেসে নতুন এজ তৈরি করতে বাধ্য হয়েছিল। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার এবং পুরানো এজ দিয়ে মাইক্রোসফট কখনও বাজার দখল করতে পারেনি। কিন্তু এই নতুন এজ আলাদা ভাষা বলছে—যা অধিকাংশ ব্যবহারকারীর জন্য উপযোগী এবং শীঘ্রই সবচেয়ে প্রিয় ব্রাউজার হয়ে যাবে। পড়ুন, নতুন মাইক্রোসফট এজে কী নতুন এবং কী চমৎকার আছে।

নতুন মাইক্রোসফট এজেরHaupt হাইলাইটস
ফিচার ১: সকল ডেটা ইম্পোর্ট করুন
ক্রোম, ফায়ারফক্স, সাফারি থেকে বুকমার্ক, পাসওয়ার্ড, ব্রাউজিং ইতিহাস এবং সেটিংস ইম্পোর্ট করা যায়। বর্তমানে খোলা ট্যাবও ইম্পোর্ট করা যায়—যেন ক্রোমেই কাজ করছেন।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
এটি অন্যান্য ব্রাউজারের সাথে সুবিধা নয়, কিন্তু এজে স্যুইচ করলে বুকমার্ক এবং সেটিংস নতুন করে সেট আপ করতে হয় না। এতটুকু ইম্পোর্ট থাকলে ব্যবহারকারী পরিবর্তন বোধ করবেন না।
নোট: প্রথম চালু করার সময় ইম্পোর্ট অপশন মিস হলে: Settings → Profiles → Import browser data।

ফিচার ২: সহজে পড়ুন (Immersive Reader)
গভীর পড়ার জন্য এই ফিচার খুব উপকারী। Immersive Reader সক্রিয় করলে ওয়েবসাইটের মূল কন্টেন্ট ছাড়া বিজ্ঞাপন, সাইড প্যানেল, পপ-আপ সব লুকিয়ে যায়।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
ট্যাবলেট ও किंডলের মতো রিডিং মোড। এড্রেস বারের ডানপাশের বই আইকনে ক্লিক করে সক্রিয় করুন। Read Aloud বাটনে ক্লিক করলে টেক্সট শোনাতে পারবে—ন্যারেশন স্পিড এবং বিশ্বের বিভিন্ন আকসেন্ট चुनতে পারবেন।

নোট: এই ফিচার ওয়েবসাইট-নির্দিষ্ট। যেসব সাইট এই ফিচার সাপোর্ট করে না সেখানে কাজ করবে না।
ফিচার ৩: আপনার পছন্দমতো ডিসপ্লে चुनুন
ব্রাউজারের চেহারা আপনার প্রয়োজন/রুচি অনুযায়ী পরিবর্তন করা যায়। তিনটি প্রিডিফাইন্ড স্টাইল: Focused, Inspirational, Informational এবং Custom। ব্রাউজার ভাষা দেশ অনুযায়ী বদলানো যায়।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
তিনটি মোড দৈনন্দিন জীবনের তিনটি পর্যায়:
Focused: সাদা ডিসপ্লে—কাজ/অধ্যয়নের সময় দৃষ্টিভ্রমণ নেই।
Inspirational: শান্ত ও সুন্দর ছবি—সকাল/সন্ধ্যা মাঝে মনের শান্তির জন্য।
Informational: মাইক্রোসফট নিউজ থেকে খবর—ছোট ব্রেকের 시간에 বিশ্বের খবর।

নোট: Settings → New Tab page → Customize থেকে ডিসপ্লে মোড নির্বাচন করুন।
ফিচার ৪: ডিভাইস সিঙ্ক করুন
একই মাইক্রোসফট একাউন্ট দিয়ে একাধিক ডিভাইসে বুকমার্ক, পাসওয়ার্ড, ইতিহাস সিঙ্ক করুন। সেটিংস → প্রোফাইল থেকে সাইন-ইন করুন।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
সকল ডিভাইস ইন্টারনেটে কানেক্টেড এবং একই একাউন্ট সিঙ্ক থাকলে ডিভাইস স্বিচ করলে কাজ বাধা পায় না। উদাহরণ: হোম কম্পিউটারে কাজ করছিলেন, ক্যাবে যাওয়ার পথে ফোনে চালু করুন, অফিস কম্পিউটারে আবার সেখান থেকে শুরু করুন।

নোট: প্রোফাইল সমস্যার কারণে আমার এক কম্পিউটারে সিঙ্ক সাময়িকভাবে অফ ছিল।
ফিচার ৫: ওয়েবসাইট অ্যাপ হিসেবে চালান
এজ ব্রাউজার চালু না করে ওয়েবসাইটকে স্ট্যান্ডঅ্যালোন অ্যাপ হিসেবে চালানো যায়। টুইটার, ফেসবুক, ইউটিউবের মতো সাইটগুলো উইন্ডোজ অ্যাপে রূপান্তর করে টাস্কবারে পিন করা যায়। ক্লিক করলে মোবাইল ভার্সনের মতো খুলবে—ব্রাউজারের কোনো চিহ্ন থাকবে না।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
নতুন ফিচার। সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য সাপোর্টেড সাইটের আইকন শর্টকাট তৈরি করলে বারবার ব্রাউজার খুলে URL দিতে হয় না। শর্টকাটে ক্লিক করলে সাইন-ইন করা ইন্টারফেস খুলবে।
ফিচার ৬: এক্সটেনশন, এক্সটেনশন, এক্সটেনশন
আজ কোনো ব্রাউজার সীমাবদ্ধতা ছাড়া নেই। ব্যবহারকারীরা সীমাবদ্ধতা চেনে এক্সটেনশন তৈরি করে। কিন্তু মাইক্রোসফট ব্রাউজারগুলোর (ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার, পুরানো এজ) প্রধান সমস্যা ছিল এক্সটেনশন সাপোর্ট নেই। সম্ভবত এটিই সবচেয়ে বড় কারণ ছিল সবাই ক্রোম ও ফায়ারফক্সে স্যুইচ করার।

নোট: মাইক্রোসফট এজ নিজস্ব এক্সটেনশন আছে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

নোট: আমি ক্রোম ওয়েব স্টোর এজে খুলে গ্রামার্লি এক্সটেনশন অ্যাড করলাম।

মাইক্রোসফট নীতিমালা শিথিল করে নতুন এজে ক্রোম এক্সটেনশন সহ 써ড-পার্টি এক্সটেনশন ইনস্টলের সুযোগ দিয়েছে। গ্রামার্লি, অ্যাডব্লক প্লাস, স্মার্ট পিডিএফ কনভার্টার, চেকার প্লাস ফর জিমেইল ইত্যাদি সব কাজ করে।
ক্রোম ওয়েব স্টোর এক্সটেনশন ব্যবহার করতে: তিনটি ডট → Extensions → "Allow extensions from other stores" স্লাইডার অন করুন।
ফিচার ৭: ডার্ক মোড
মাইক্রোসফট এজে ডার্ক মোড থিম রয়েছে। তিনটি ডট → Settings → Appearance → Theme থেকে লাইট/ডার্ক মোড বদলান।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
এটি সเปশিয়ালি গুরুত্বপূর্ণ নয়, কিন্তু ডার্ক মোড বাদ দিতে পারিনি!
আপনার মনে পড়া যাক, নতুন ক্রোমিয়াম-বেসড মাইক্রোসফট এজ আপনাকে সাহায্য করে:
- অন্য ব্রাউজার থেকে সেটিংস ইম্পোর্ট
- একাধিক ডিভাইস সিঙ্ক
- এক্সটেনশন ইনস্টল
- ডিসপ্লে মোড নির্বাচন
- ওয়েবসাইটকে অ্যাপে রূপান্তর
- বिना দৃষ্টিভ্রমণ পড়া
কিন্তু এটিই কি আপনাকে স্যুইচ করার জন্য যথেষ্ট? আমার মতে নয়। ডার্ক মোড বাদে অবশ্যই কিছু গুরুত্বপূর্ণ থাকতে হবে। এবং সেই ফিচারটি হলো Security and Privacy—যা অবশ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ফিচার ৮: সিকিউরিটি ও প্রাইভেসি
ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সবচেয়ে বড় ভয় কী? আমাদের ব্রাউজিং ইতিহাস ও আগ্রহের ডেটা ই-কমার্স জায়ান্টরা বিজ্ঞাপন ও পপ-আপে প্রমোট করার জন্য যে কোনো দামে কিনতে চায়।
মাইক্রোসফট এজ সাধারণ ব্যবহারকারীদের সিকিউরিটি ও প্রাইভেসি চিন্তা দূর করতে বুদ্ধিমত্তাপূর্ণ কদম উঠিয়েছে। নতুন Track Prevention ফিচার অপ্রাসঙ্গিক বিজ্ঞাপন দেখানো এবং ওয়েবসাইট থেকে ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারীর গতিবিধি ট্র্যাক করা অ্যাড প্রোভাইডার ব্লক করে। ব্যবহারকারী নিজে কাস্টমাইজ করতে পারবেন কতো বিজ্ঞাপন দেখতে চান বা এড়াতে চান। তিনটি ক্যাটাগরি:

- Basic: মাইক্রোসফটের মতে হানিকারক নয় এমন প্রায় সব ট্র্যাকার অনুমোদন। পার্সোনালাইজড অ্যাড ও কন্টেন্ট দেখাবে। ম্যালিশিয়াস কন্টেন্ট এড়িয়ে সব কিচু অনুমোদন চাইলে উপযোগী।
- Balanced (ডিফল্ট): কম বিজ্ঞাপন, কম পার্সোনালাইজড কন্টেন্ট।
- Strict: প্রায় সব ট্র্যাকার ব্লক। নগণ্য বিজ্ঞাপন। কিন্তু অনেক সাইট সঠিক কাজ নাও করতে পারে (অনেক সাইট বিজ্ঞাপনে নির্ভরশীল)। অ্যাডব্লকার থাকলে সাইট ভাঙতে পারে।
নতুন মাইক্রোসফট এজের এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফিচার। ব্যবহারকারী আরও সিকিউরিটি ও প্রাইভেসি সেটিংস কাস্টমাইজ করতে পারবেন। কোন ট্র্যাকার ব্লক হয়েছে এবং কোন সাইট ম্যালিশিয়াস কন্টেন্ট রিলিজ করেছে তা দেখতে পারবেন।
শেষ কথা: কেন অবিলম্বে নতুন মাইক্রোসফট এজ ইনস্টল করতে হবে

মাইক্রোসফট তার এজ ব্রাউজারে চমৎকার ফিচার যোগ করেছে, এবং উন্নতি স্থির নয়—প্রবাহমান নদীর মতো। আরও ফিচার ও আপডেট আসছে যেমন Collections অপশন (বেটা ভার্সনে রয়েছে)। কালেকশন ফিচার দিয়ে প্রিয় ওয়েবসাইট ও বুকমার্ক ক্যাটাগরি অনুযায়ী গ্রুপ করা যাবে। এটা শুধু একটি লিক ফিচার, আরো আসছে। মাইক্রোসফট নীতিমালা বদলিয়ে ক্রোমিয়াম টেকনোলজিতে নতুন ব্রাউজার তৈরি করেছে—তাই আমরা তাদের কাছ থেকে বড় আশা রাখতে পারি।
মাইক্রোসফট এজ সম্পর্কে আপনার মতামত ও ইন্সটল করার পর অভিজ্ঞতা কমেন্টে শেয়ার করুন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলো করুন—ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউব।