এই আর্টিকেলে আমরা শিখব এক্সেল গ্রাফে দুটি ভেরিয়েবলের সম্পর্ক কীভাবে দেখাতে হয়। আমাদের জীবনে, বিশেষ করে বিজনেস এবং সায়েন্সের ক্ষেত্রে আমরা ঘন ঘন ভবিষ্যতের ফলাফল প্রিডিক্ট করতে হয় আবশ্যক কদম নেওয়ার জন্য। কিন্তু সেটি করার জন্য প্রথমে ভেরিয়েবলগুলোর মধ্যে সম্পর্ক জানতে হয়। আজ আমরা ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া দেখাব। এই ধাপগুলো ব্যবহার করে আপনি সহজে এক্সেলে গ্রাফে দুটি ভেরিয়েবলের সম্পর্ক দেখাতে পারবেন। তাই আর বিলম্ব না করে আলোচনা শুরু করা যাক।
প্র্যাক্টিস বুক ডাউনলোড করুন
এখান থেকে প্র্যাক্টিস বুক ডাউনলোড করতে পারেন।
দুটি ভেরিয়েবলের মধ্যে কোরিলেশন কী?
দুটি ভেরিয়েবলের মধ্যে সম্পর্ককে সাধারণত কোরিলেশন বলা হয়। এটি নির্দেশ করে যে ভেরিয়েবলগুলো কতটা শক্তিশালীভাবে সংযুক্ত। কোরিলেশন মাপার জন্য একটি কোইফিশিয়েন্ট ব্যবহার করা হয়। এটিকে কোরিলেশন কোইফিশিয়েন্ট বলা হয়।
যদি কোরিলেশন কোইফিশিয়েন্ট ০ হয়, তবে ভেরিয়েবলগুলো কোরিলেটেড নয়। অর্থাৎ তাদের শূন্য কোরিলেশন রয়েছে। অতএব এক ভেরিয়েবলে পরিবর্তন অন্যকে প্রভাবিত করবে না। শূন্য কোরিলেশন গ্রাফ একটি সরল রেখা।

কিন্তু যদি কোরিলেশন কোইফিশিয়েন্ট -১ থেকে +১-র মধ্যে হয়, তবে ভেরিয়েবলগুলো রিলেটেড। নেগেটিভ ভ্যালুর জন্য আমরা বলি ভেরিয়েবলগুলো নেগেটিভলি কোরিলেটেড। সুতরাং আমরা একটি নেগেটিভ কোরিলেশন পাই এবং নিচের ছবির মত গ্রাফ পাই। গ্রাফ থেকে আমরা বলতে পারি যদি এক ভেরিয়েবল বড় হয় তবে অন্যটি কমবে।

যদি পজিটিভ কোরিলেশন কোইফিশিয়েন্ট পাওয়া যায় তবে ভেরিয়েবলগুলো পজিটিভলি কোরিলেটেড। পজিটিভ কোরিলেশন গ্রাফ একটি বর্ধমান রেখা। এটি বোঝায় যদি এক ভেরিয়েবল বড় হয় তবে অন্যটিও বড় হবে।

এক্সেল গ্রাফে দুটি ভেরিয়েবলের সম্পর্ক দেখানোর ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া
ধাপগুলো ব্যাখ্যা করার জন্য আমরা একটি ডেটাসেট ব্যবহার করব যাতে একটি কোম্পানির কিছু কর্মীর Height এবং Weight রয়েছে। এখানে দুটি ভেরিয়েবল রয়েছে। আমরা Height -কে x–axis এ এবং Weight -কে y–axis-এ প্লট করব। সাধারণত Scatter Chart দুটি ভেরিয়েবলের সম্পর্ক বর্ণনা করে। গ্রাফ ব্যবহার করে আমরা Height এবং Weight-এর মধ্যে সম্পর্ক দেখাব। তাই আর বিলম্ব না করে নিচের ধাপগুলো ফলো করুন।

STEP ১: Scatter Plot তৈরি করুন
- প্রথমে ডেটাসেট ব্যবহার করে একটি স্ক্যাটার প্লট তৈরি করতে হবে।
- उस জন্য range C4:D13 সিলেক্ট করুন।

- এরপর Insert ট্যাবে যান এবং Insert Scatter আইকনে ক্লিক করুন। একটি ড্রপ-ডাউন মেনু দেখাবে।
- সেখান থেকে the Scatter Plot আইকন সিলেক্ট করুন।

- ফলস্বরূপ শিটে গ্রাফটি দেখতে পাবেন।

STEP ২: চার্ট এবং অ্যাক্সিস টাইটেল যোগ করুন
- দ্বিতীয় ধাপে আপনি Chart Title এবং Axis Title চেঞ্জ করতে পারেন গ্রাফকে আরও বোঝাপড়া করার জন্য।

STEP ৩: Trendline ইনসার্ট করুন
- তৃতীয়, চার্টে ক্লিক করুন। একটি প্লাস (+) আইকন দেখাবে।
- এখন প্লাস (+) আইকন এ ক্লিক করুন অপশনগুলো দেখতে।
- সেখান থেকে Trendline চেক করুন।

- क्षणিক আপনি গ্রাফে একটি লিনিয়ার ট্রেন্ডলাইন দেখতে পাবেন।
- ট্রেন্ডলাইন থেকে আমরা বলতে পারি দুটি ভেরিয়েবল পজিটিভলি কোরিলেটেড।
- অর্থাৎ যদি এক ভেরিয়েবল বড় হয় তবে অন্যটিও বড় হবে।

STEP ৪: R-Squared ভ্যালু প্রদর্শন করুন
- পরবর্তী ধাপে আমরা গ্রাফে R–Squared ভ্যালু প্রদর্শন করব। এই ভ্যালু ব্যবহার করে কোরিলেশন কোইফিশিয়েন্ট, R জেনারেট করা যায়।
- उस জন্য ট্রেন্ডলাইনে ডাবল–ক্লিক করুন। এটি শিটের ডান পাশে Format Trendline সেটিংস খুলবে।
- সেখান থেকে 'Display R–squared value on chart' চেক করুন।

- ফলস্বরূপ চার্টে R–Squared ভ্যালু দেখতে পাবেন।

STEP ৫: চার্টে ট্রেন্ডলাইন ইকুয়েশন দেখান
- স্টেপ ৫-এ আমরা ট্রেন্ডলাইনের ইকুয়েশন যোগ করব। এই ইকুয়েশন আমাদের একটি ধারণা দেয় ট্রেন্ডলাইন কীভাবে পরিবর্তন হয়।
- চার্টে ট্রেন্ডলাইনের ইকুয়েশন যোগ করতে Format Trendline সেটিংসে 'Display Equation on chart' অপশন চেক করুন।

- এরপর আপনি লিনিয়ার ট্রেন্ডলাইনের ইকুয়েশন দেখতে পাবেন।

STEP ৬: কোরিলেশন কোইফিশিয়েন্ট বের করুন
- এই ধাপে আমরা কোরিলেশন কোইফিশিয়েন্ট বের করব এবং দেখব ভেরিয়েবলগুলো কতটা শক্তিশালীভাবে রিলেটেড।
- স্টেপ ৪-এ আমরা R–Squared ভ্যালু পেয়েছি যা ০.৬৬১৮।
- আমরা SQRT ফাংশন ব্যবহার করে কোরিলেশন কোইফিশিয়েন্ট, R পেতে পারি।
- उस জন্য Cell D5 সিলেক্ট করুন এবং নিচের ফর্মুলা টাইপ করুন:
=SQRT(0.6618)
- তারপর Enter চাপুন ফলাফল দেখতে।
- আপনি দেখতে পাবেন কোরিলেশন কোইফিশিয়েন্ট ০.৮১৩৫ যা একটি পজিটিভ কোরিলেশন নির্দেশ করে।

STEP ৬: কোরিলেশন কোইফিশিয়েন্ট চেক করুন
- আপনি CORREL ফাংশন ব্যবহার করেও কোরিলেশন কোইফিশিয়েন্টের ভ্যালু চেক করতে পারেন গ্রাফ থেকে পাওয়া রেজাল্ট সঠিক কিনা নিশ্চিত করতে।
- उस জন্য Cell D16 সিলেক্ট করুন এবং নিচের ফর্মুলা টাইপ করুন:
=CORREL(C5:C13,D5:D13)
CORREL ফাংশন দুটি ভেরিয়েবলের কোরিলেশন কোইফিশিয়েন্টের ভ্যালু বের করে। আপনাকে X–variable ডেটা সিরিজ প্রথম আর্গুমেন্টে এবং Y–variable দ্বিতীয় আর্গুমেন্টে ইনপুট করতে হবে।
- শেষে Enter চাপুন ফলাফল দেখতে।
- আপনি দেখতে পাবেন কোরিলেশন কোইফিশিয়েন্টের দুটি ভ্যালু একই।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
- উপরের ধাপগুলো সম্পন্ন করার পর আমরা কোরিলেশন কোইফিশিয়েন্ট, R, এবং ট্রেন্ডলাইনের ইকুয়েশন পাব।
- শূন্য, পজিটিভ, এবং নেগেটিভ কোরিলেশন গ্রাফের সাথে ট্রেন্ডলাইন তুলনা করলে আমরা বলতে পারি দুটি ভেরিয়েবল পজিটিভলি কোরিলেটেড।
- এবং কোরিলেশন কোইফিশিয়েন্ট R এর ভ্যালু একটি শক্তিশালী পজিটিভ কোরিলেশন নির্দেশ করে।
- অর্থাৎ আপনি যদি এক ভেরিয়েবল বাড়ান তবে অন্যটিও বাড়বে।

উপসংহার
এই আর্টিকেলে আমরা এক্সেল গ্রাফে দুটি ভেরিয়েবলের সম্পর্ক দেখানোর ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া আলোচনা করেছি। আশা করি এই আর্টিকেল আপনার কাজগুলো দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করতে সাহায্য করবে। উপরন্তু আর্টিকেলের শুরুতে প্র্যাক্টিস বুক যোগ করা আছে। আপনার স্কিল টেস্ট করতে সেটি ডাউনলোড করে অনুশীলন করতে পারেন। আরও আর্টিকেলের জন্য ExcelDemy ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। শেষে আপনার যেকোনো সুপারিশ বা কুয়েরি থাকলে কমেন্ট সেকশনে জিজ্ঞাসা করতে মুক্ত অনুভব করুন।