আপনি ভাবতে পারেন ফোন লক থাকলে অ্যাপ লক কেন দরকার। আসলে ফোন আনলক করে কারো হাতে দিলে সে আপনার সংবেদনশীল তথ্য দেখতে পারে। অ্যাপ লক থাকলে অতিরিক্ত সুরক্ষা পাওয়া যায়।
iOS-এ অ্যাপ রিস্ট্রিকশন আগেও ছিল, কিন্তু iOS 12-এ এগুলো স্ক্রিন টাইম ইউটিলিটিতে চলে এসেছে। সিস্টেম লেভেলে আলাদা করে অ্যাপ লক করার ফিচার নেই, তাই সীমিত সংখ্যক অ্যাপ লক করা যায়।
অ্যাপ সম্পূর্ণ হাইড করাও কঠিন, কিন্তু নিচে কিছু ওয়ার্কঅরাউন্ড দেওয়া হলো যাতে আপনার অ্যাপ সেটিংস ও ডেটা সুরক্ষিত থাকে।
কন্টেন্ট অ্যান্ড প্রাইভেসি রিস্ট্রিকশন
এই ফিচার স্ক্রিন টাইমে রয়েছে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট ফিচার বা অ্যাপ ব্লক বা লিমিট করা যায়। এছাড়া এক্সপ্লিসিট কন্টেন্ট, গোপনীয়তা, পারচেস ও ডাউনলোড সেটিংস রিস্ট্রিক্ট করা যায়।
কিভাবে করবেন:
1. Settings-এ যান।
2. Screen Time-এ ট্যাপ করুন।
3. Content & Privacy Restrictions-এ ট্যাপ করুন।
4. পাসকোড চাইলে দিন (ফোন আনলক পাসকোড থেকে ভিন্ন রাখুন)।
5. Content & Privacy অন করুন।
নোট: অ্যাপ বা ফিচার অফ করলে সেগুলো ডিলিট হয় না, শুধু হোম স্ক্রিন থেকে অদৃশ্য হয়। আবার অন করলে ফেরত আসবে।
টাইম লিমিট সেট করা
এটা অ্যাপ লকের মতো কাজ করে—অ্যাপ ব্যবহারের সময় সীমাবদ্ধ করে। তবে প্রতিটি অ্যাপ আলাদা করে লিমিট দেওয়া যায় না, ক্যাটাগরি অনুযায়ী (সোশ্যাল, এন্টারটেইনমেন্ট, গেমস) লিমিট সেট করতে হয়। লিমিট শেষ হলে নোটিফিকেশন আসবে, তবে ইগনোর করে চালিয়ে যাওয়া যায়। প্যারেন্টাল কন্ট্রোলের জন্য স্ক্রিন টাইম পাসওয়ার্ড সেট করা যায়।
টাইম লিমিট সেট করার ধাপ:
1. Settings খুলুন।
2. Screen Time-এ ট্যাপ করুন।
3. App Limits → Add Limit। অ্যাপ লিস্ট দেখাবে, যেটা রিস্ট্রিক্ট করতে চান সিলেক্ট করুন।
4. ক্যাটাগরির চেকবক্সে ট্যাপ করুন।
5. সময় লিমিট (ঘণ্টা/দিন) বেছে নিন।
6. Add ট্যাপ করে সেভ করুন।
গাইডেড অ্যাক্সেস (পাসওয়ার্ড অ্যাপ লক)
এই মেথডে আপনি বর্তমান অ্যাপ থেকে বের হতে পারবেন না। শিশু ফোন ব্যবহার করলে অন্য অ্যাপে না যেতে দেয়ার জন্য উপযোগী।
গাইডেড অ্যাক্সেস সেট করার ধাপ:
1. Settings → General-এ যান।
2. Accessibility-এ ট্যাপ করুন।
3. Guided Access-এ ট্যাপ করে টগল অন করুন।
4. Passcode Settings-এ ট্যাপ করুন।
5. Set Guided Access Passcode-এ ট্যাপ করুন।
6. নতুন পাসওয়ার্ড দিয়ে কনফার্ম করুন।
গাইডেড অ্যাক্সেস ব্যবহার করতে কোনো অ্যাপ খুলে হোম বাটন তিনবার টিপুন (iPhone X-এ সাইড বাটন)। এরপর আপনি স্ক্রিনের নির্দিষ্ট এরিয়া ডিজেবল করতে পারেন। Options-এ ট্যাপ করে টাচস্ক্রিন, ভলিউম বাটন ইত্যাদি বন্ধ করতে পারেন। সেশন টাইম লিমিটও সেট করা যায়।
সেশন শেষ করতে টাচ আইডি (যদি সাপোর্ট করে) ব্যবহার করতে পারেন পাসওয়ার্ডের পরিবর্তে। সেটিংস → General → Accessibility → Guided Access → Passcode Settings → Touch ID অন করুন।
ফেস আইডি ও টাচ আইডি (ফিঙ্গারপ্রিন্ট)
এই দুটি ফিচার সুবিধা ও নিরাপত্তা দুটোই দেয়। লম্বা পাসওয়ার্ডের চেয়ে সুরক্ষিত এবং চোররা যা সহজে ভাঙতে পারে না।
এগুলো শুধু স্ক্রিন লক করে না, অ্যাপও প্রোটেক্ট করে। ফোন আনলক থাকা অবস্থায় কারো হাতে দিলে সে সংবেদনশীল তথ্য দেখতে পারবে না। লগইন সময় ফেস/ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যান করা পাসওয়ার্ড টাইপ করার চেয়ে সহজ।
টাচ আইডি সেটআপ থাকলে অ্যাপ লক করতে:
1. Settings খুলুন।
2. Touch ID & Passcode-এ ট্যাপ করুন।
3. পাসওয়ার্ড দিন।
4. যে অ্যাপগুলো লক করতে চান সেগুলোর টগল অন করুন।
নোট: এই ধাপগুলো শুধু iTunes, Apple Pay, App Store-এর মতো অ্যাপের জন্য। অন্যান্য থার্ড-পার্টি অ্যাপের জন্য আলাদা প্রক্রিয়া:
1. সেসব অ্যাপের সেটিংসে যান।
2. Preferences-এ ট্যাপ করুন।
3. Lock বা Passcode & Touch ID সিলেক্ট করুন (অ্যাপ অনুযায়ী)।
থার্ড-পার্টি অ্যাপ ব্যবহার
এটি ভালো অপশন, কারণ বায়োমেট্রিক বা পাসওয়ার্ড দিয়ে আলাদা অ্যাপ লক করার অনেক অ্যাপ পাওয়া যায়। কিন্তু আপনার আইফোন জেইলব্রোক না থাকলে এগুলো কাজ করবে না, যা আমরা রিকমেন্ড করি না কারণ পারফরম্যান্স ও নিরাপত্তা সমস্যা হতে পারে।
উপসংহার
শিশুদের অযোগ্য কন্টেন্ট থেকে বাচাতে হোক বা পাসওয়ার্ড ম্যানেজার সুরক্ষিত রাখতে হোক—উপরোক্ত যেকোনো পদ্ধতি আপনাকে আইফোনে অ্যাপ লক করতে সাহায্য করবে।