কম্পিউটার টিউটোরিয়াল

সাইবারস্কোয়াটিং বনাম টাইপোস্কোয়াটিং: মূল পার্থক্য ও আইনি নয়ামত

URL বা ওয়েবসাইট ডোমেন দিনต่อদিন জনপ্রিয় হচ্ছে। ব্যবসা, কন্টেন্ট ক্রিয়েশন, ব্লগের জন্য ডোমেন ও হোস্টিং কেনা যাচ্ছে। এটি ব্যবসা ও ট্রেন্ডের অংশ। ডোমেন সার্চ ব্র্যান্ড পপুলারিটি বোঝায়। ডোমেন কেনা নিজে একটা ব্যবসা। যত জনপ্রিয় ডোমেন, তত বেশি দাম। ক্যাচি URL-র চাহিদা বেড়ে এক্সটর্টশনিস্টরা নেটিজেনদের ফাঁসিয়ে টাকা ऐঠার নতুন পদ্ধতি খুঁজে পেয়েছে।

সাইবারস্কোয়াটিং এবং টাইপোস্কোয়াটিং কীভাবে ডোমেন বায়ারদের থেকে টাকা ऐঠার জন্য ব্যবহৃত হয়, আসুন জানি:

সাইবারস্কোয়াটিং কী?

সাইবারস্কোয়াটিং বনাম টাইপোস্কোয়াটিং: মূল পার্থক্য ও আইনি নয়ামত

সাইবারস্কোয়াটিং বলতে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা বা বিখ্যাত ব্র্যান্ডের নাম আগেই রেজিস্টার করে পরবর্তীতে প্রফিটের জন্য বিক্রি করার প্রথাকে বুঝায়। উদাহরণ: কেউ তার লোকাল এরিয়ায় কফি হাউস খুলছে এবং নাম রাখল 'NetCafe'। সে চায় ওয়েবসাইটের ডোমেন www.netcafe.com। কিন্তু রেজিস্টার করতে গেলে দেখল ডোমেনটি কেউ আগেই কিনে নিয়েছে এবং উচ্চ দামে বিক্রি করছে। ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে ডোমেন কেনে নেয়। এই রিসেলিংকে সাইবারস্কোয়াটিং বলা হয়। এখানে সাইবারস্কোয়াটাররা কোনো লঙ্ঘন করে না, তারা ডোমেনের ফি দিয়েছে। কিন্তু নৈতিক লঙ্ঘন হয়। এটিকে URL Hijacking-ও বলা হয়।

টাইপোস্কোয়াটিং কী?

সাইবারস্কোয়াটিং বনাম টাইপোস্কোয়াটিং: মূল পার্থক্য ও আইনি নয়ামত

টাইপোস্কোয়াটিং অধিক দূষ্ট উদ্দেশ্যে করা হয়। টাইপোস্কোয়াটিং বলতে বিখ্যাত ব্র্যান্ডের সাথে মিলते-जুলতে URL কিনে সেখানে ম্যালিশিয়াস টেমপ্লেট তৈরি করা। উদাহরণ: faceboook.com বা goole.com (Facebook ও Google-র সাদৃশ্য)। ইউজার টাইপো করলে সেখানে যেতে পারে। সেখানে ম্যালওয়্যার বা ভাইরাস অটো-ডাউনলোড হয়। টাইপোস্কোয়াটাররা ইউজারের সাধারণ টাইপোগ্রাফিক্যাল এরর নেয় নিচের কাজগুলো করতে:

  • ব্রাউজারে সেভ করা ক্রেডিট ইনফো এবং পার্সোনাল ডিটেইল চুরি করা।

সাইবারস্কোয়াটিং বনাম টাইপোস্কোয়াটিং: মূল পার্থক্য ও আইনি নয়ামত

  • ম্যালওয়্যার ইনস্টল করে সিস্টেম ফাইল এক্সেস করা।
  • র্যানসমওয়্যার অ্যাটাক করে র্যানসাম দাবি করা।
  • চুরি করা আইডি দিয়ে ফ্রড করা।
  • সেভ করা পাসওয়ার্ড দিয়ে বিভিন্ন একাউন্ট হ্যাক করা।

টাইপোস্কোয়াটাররা থেকে সুরক্ষিত থাকার উপায়

নিচের পয়েন্টগুলো মনে রাখুন:

সাইবারস্কোয়াটিং বনাম টাইপোস্কোয়াটিং: মূল পার্থক্য ও আইনি নয়ামত
  • ডোমেনে https এক্সটেনশন থাকতে হবে—এটি সিকিউয়ার ও এনক্রিপ্টেড কমিউনিকেশন প্রমাণ করে।
  • ক্রেডেনশিয়াল ও পাসওয়ার্ড ওয়েবে সেভ করবেন না।
  • একই পাসওয়ার্ড মাল্টিপল লগইনে ব্যবহার করবেন না।
  • লগইন করার আগে ডোমেন সঠিক কিনা চেক করুন।

সাইবারস্কোয়াটিং বনাম টাইপোস্কোয়াটিং: মূল পার্থক্য ও আইনি নয়ামত

  • বিশ্বস্ত ভেন্ডর থেকে ডোমেন কিনুন। অজানা সোর্স থেকে হোস্টিং/URL কিনবেন না।
  • টাইপোস্কোয়াটারদের টাকা দিয়ে প্রিয় URL কিনবেন না—ট্রানজেকশন ডিটেইল থেকে তথ্য চুরি করতে পারে।

ম্যালওয়্যার ও স্প্যাম প্রতিরোধে প্রোটেক্টর টুল ব্যবহার করুন

সাইবারস্কোয়াটিং ও টাইপোস্কোয়াটিং URL ব্রাউজার থেকে ক্রেডেনশিয়াল চুরি না করতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে ব্রাউজার সিকিউর রাখুন। পাসওয়ার্ড ব্রাউজারে সেভ করবেন না, কুকিজ ও আইডেন্টিটি ট্রেস সময় সময়ে মুছুন।

Advanced Identity Protector ব্রাউজার অ্যাক্টিভিটি সুরক্ষিত রাখতে সেরা টুল। এটি ইমেইল আইডি, ক্রেডিট ইনফো, পার্সোনাল ডিটেইলস স্ক্যান করে পারমানেন্ট ডিলিট করে। কোনো ম্যালিশিয়াস ওয়েবসাইট খুললেও তথ্য চুরি হবে না। বিল্ট-ইন সিকিউয়ার ভল্টে পাসওয়ার্ড সেভ করে লক রাখা যায়।

সাইবারস্কোয়াটিং বনাম টাইপোস্কোয়াটিং: মূল পার্থক্য ও আইনি নয়ামত

এই সার্ভিস দিয়ে টাইপোস্কোয়াটার ও সাইবারস্কোয়াটারদের হুমকি থেকে সিস্টেম ও ইন্টারনেট প্রাইভেসি রক্ষা করা যায়। উইন্ডোজ রেজিস্ট্রি থেকে সংবেদনশীল ইনফো ক্লিন করে ম্যালওয়্যার ব্রিচ রোধ করে।

অনেক ইউজার সাইবারস্কোয়াটার/টাইপোস্কোয়াটারের সাথে ডিল করে অনলাইন ট্রানজেকশনে অজান্তে তথ্য শেয়ার করে, যা পরে আইডেন্টিটি থেফটের কারণ হয়। এই खতরগুলো জানা জরুরি। ব্র্যান্ডের জন্য ভিন্ন নাম বেছে নেওয়া ভালো। প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা হলে ওয়েবসাইটের নামে মডিফায়ার যোগ করুন। অজানা সেলারকে টাকা দিয়ে লাভ না করে সতর্ক থাকা ভালো। টুল ব্যবহার ও সতর্কতায় এই হুমকি থেকে বাঁচা যায়।

সাইবারস্কোয়াটিং বা টাইপোস্কোয়াটিং-এ সমস্যা ফেস করেছেন কিনা কমেন্টে জানান। স্কোয়াটার থেকে ডোমেন কিনে সমস্যা হয়েছে কিনা শেয়ার করুন।


  1. DirectX 11 এবং DirectX 12-এর পার্থক্য কী?

  2. UEFI বনাম BIOS: BIOS এবং UEFI-এর পার্থক্য কী?

  3. উইন্ডোজ আপডেট এবং আপগ্রেডের পার্থক্য কী?

  4. মডেম বনাম রাউটার: মূল পার্থক্যগুলো সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা