আজকাল প্রায় সব মোবাইল আনলকড আসে—যেকোনো ক্যারিয়ারের SIM ব্যবহার করা যায়। কিন্তু পুরনো সময়ে AT&T, Verizon, Sprint-এর মতো ক্যারিয়ার সাবসিডিয়ারিতে ফোন বিক্রি করত এবং সেটি লকড থাকত। পুরনো ডিভাইস বা সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন কিনলে নিশ্চিত হতে হবে এটি আপনার ক্যারিয়ারের সাথে কম্প্যাটিবল কিনা। আনলকড ফোন বেশি পছন্দনীয়। এই আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
লকড ফোন কী?
পুরনো সময়ে প্রায় সব স্মার্টফোন (iPhone/Android) লকড হতো—অন্য ক্যারিয়ারের SIM কাজ করত না। বড় ক্যারিয়ার কোম্পানিগুলো সাবসিডিয়ারিটে ফোন দিয়ে এক্সক্লুসিভ সার্ভিস বাধ্য করত। চুরি রোধেও লক ব্যবহার হতো। ফোন কিনতে গিয়ে যদি দেখেন SIM ইতিমধ্যে লাগানো আছে বা ক্যারিয়ারের সাথে পেমেন্ট প্ল্যান সাইন করতে হচ্ছে—তাহলে ফোনটি লকড।
কেন আনলকড ফোন কিনবেন?
আনলকড ফোনে আপনি যেকোনো ক্যারিয়ার বেছে নিতে পারেন। সেরা সার্ভিস বা ইকোনমিক প্রাইস পেলে যেকোনো মুহূর্তে স্যুইচ করতে পারবেন। শর্ত শুধু এটাই—ডিভাইস নেটওয়ার্কের সাথে কম্প্যাটিবল হতে হবে (যেমন 5G/4G নেটওয়ার্কের জন্য 5G/4G কম্প্যাটিবল ডিভাইস)।
কোথায় থেকে আনলকড ফোন কিনবেন?
Verizon-এর প্রায় সব ফোন আনলকড। Amazon, Best Buy-এর মতো থার্ড-পার্টি রিটেলারও আনলকড ফোনই বিক্রি করে। লকড থাকলে অনুরোধ করলে তারা আনলক করে দেয়। সরাসরি Samsung, Motorola-এর মতো ম্যানুফ্যাকচারার থেকে কিনলে ফোন আনলকড থাকে। তবুও লিস্টিং ইনফো চেক করুন।
ফোন আনলকড কিনা চেক করার পদ্ধতি
দুইভাবে চেক করা যায়: ডিভাইস সেটিংস থেকে এবং অন্য ক্যারিয়ারের SIM দিয়ে।
পদ্ধতি ১: ডিভাইস সেটিংস থেকে চেক করুন
- Settings খুলুন।
- Wireless and Networks > Mobile network > Carrier।
- Automatic টগল অফ করুন।
- ডিভাইস এখন সব উপলব্ধ নেটওয়ার্ক সার্চ করবে।
- একাধিক নেটওয়ার্ক দেখালে ফোন আনলকড। একটিতে কল করে দেখুন।
- শুধু একটি নেটওয়ার্ক দেখালে ফোন লকড।
নোট: এই পদ্ধতি ১০০% নিশ্চিত নয়। নিচের পদ্ধতি বেশি নির্ভরযোগ্য। সমস্যা হলে Verizon কাস্টমার সার্ভিসে কথা বলুন।
পদ্ধতি ২: অন্য ক্যারিয়ারের SIM কার্ড ব্যবহার করুন
এটি সবচেয়ে নিশ্চিত পদ্ধতি। প্রি-অ্যাক্টিভেটেড বা নতুন SIM কাজ করবে।
- বর্তমান SIM দিয়ে কল করে ফোন ঠিক কাজ করছে কিনা দেখুন।
- ফোন বন্ধ করে SIM বের করুন (ট্রে ইজেক্টর বা ব্যাক কভার খুলে)।
- নতুন SIM লাগিয়ে ফোন অন করুন।
- SIM unlock code মাগলে ফোন লকড।
- নরমাল চালু হয়ে ক্যারিয়ারের নাম বদলে নেটওয়ার্ক বারে সিগন্যাল বারের সব বার দেখালে ফোন আনলকড।
- নতুন SIM দিয়ে কল করুন। কানেক্ট হলে নিশ্চিত আনলকড।
- কল না হলে এরর কোড/মেসেজ নোট করে অনলাইন সার্চ করুন।
- নেটওয়ার্ক কম্প্যাটিবিলিটি সমস্যাও হতে পারে—এটি লক নয়।
পদ্ধতি ৩: বিকল্প উপায়
- নেটওয়ার্ক সার্ভিস প্রোভাইডারকে কল করে IMEI (*#06#) দিয়ে জানুন।
- নিকটস্থ ক্যারিয়ার স্টোরে যান—তাদের স্পেয়ার SIM থাকে, চেক করে দেবেন। লকড হলে আনলক করার পথ বলবেন।
ফোন আনলক করার পদ্ধতি
লকড ফোন সাবসিডিয়ারিটে পাওয়া যায় নির্দিষ্ট সময় (৬ মাস, ১ বছর+) বা ইনস্টলমেন্ট প্ল্যানে। শর্ত পূরণ করলে ক্যারিয়ার আনলক করতে বাধ্য।
AT&T আনলক পলিসি
- IMEI লস্ট/স্টোলেন রিপোর্টেড নয়।
- সকল ইনস্টলমেন্ট ও ডিউ ক্লিয়ার।
- ডিভাইসে অন্য এক্টিভ অ্যাকাউন্ট নেই।
- AT&T সার্ভিস কমপক্ষে ৬০ দিন ব্যবহার, কোনো বকেয়া নেই।
রিকোয়েস্ট: att.com/deviceunlock > Unlock your device > এলিজিবিলিটি সম্মত > সাবমিট > ইমেইলে কনফার্মেশন লিংক (২৪ ঘণ্টার মধ্যে) > ২ বিজনেস ডেয়ে রেসপন্স।
Verizon আনলক পলিসি
৬০ দিন সার্ভিস ইউজ করলে অটোমেটিক আনলক। সম্প্রতি কেনা ফোন হয়তো ইতিমধ্যেই আনলকড।
Sprint আনলক পলিসি
- ডিভাইসে SIM আনলক ক্যাপাবিলিটি থাকতে হবে।
- IMEI লস্ট/স্টোলেন/ফ্রড সন্দেহ নেই।
- সকল পেমেন্ট/ইনস্টলমেন্ট ক্লিয়ার।
- কমপক্ষে ৫০ দিন সার্ভিস ইউজ।
- অ্যাকাউন্ট গুড স্ট্যান্ডিং-এ।
T-Mobile আনলক পলিসি
- ডিভাইস T-Mobile নেটওয়ার্কে রেজিস্টার্ড।
- লস্ট/স্টোলেন/ইলিগাল এক্টিভিটি নেই।
- T-Mobile দ্বারা ব্লকড নয়।
- অ্যাকাউন্ট গুড স্ট্যান্ডিং।
- কমপক্ষে ৪০ দিন সার্ভিস ইউজ।
T-Mobile কাস্টমার সার্ভিসে কল করে আনলক কোড ও ইনস্ট্রাকশন নিন।
Straight Talk আনলক পলিসি
- IMEI লস্ট/স্টোলেন/ফ্রড সন্দেহ নেই।
- ডিভাইস অন্য নেটওয়ার্কের SIM সাপোর্ট করে।
- কমপক্ষে ১২ মাস সার্ভিস ইউজ।
- অ্যাকাউন্ট গুড স্ট্যান্ডিং।
- Straight Talk কাস্টমার নয়লে এক্সট্রা ফি।
Cricket Phone আনলক পলিসি
- ডিভাইস Cricket-এ রেজিস্টার্ড ও লকড।
- লস্ট/স্টোলেন/ইলিগাল এক্টিভিটি নেই।
- কমপক্ষে ৬ মাস সার্ভিস ইউজ।
ওয়েবসাইটে রিকোয়েস্ট বা কাস্টমার সাপোর্টে কল করুন।
সুপারিশ:
- অ্যান্ড্রয়েডে কপি-পেস্ট ব্যবহার করুন
- চুরি হওয়া অ্যান্ড্রয়েড ফোন খুঁজুন/ট্র্যাক করুন
- Google Backup থেকে নতুন ফোনে অ্যাপ ও সেটিংস রিস্টোর করুন
আনলকড ফোন আজকাল স্বাভাবিক। কেউ একক ক্যারিয়ারে বাঁধি থাকতে চায় না। সবার স্বাধীনতা থাকা উচিত নেটওয়ার্ক স্যুইচ করার। শুধু নিশ্চিত করুন আপনার ডিভাইস নতুন SIM-এর সাথে কম্প্যাটিবল। কিছু ডিভাইস নির্দিষ্ট ক্যারিয়ারের ফ্রিকোয়েন্সির সাথে ভালো কাজ করে। সুতরাং স্যুইচ করার আগে ভালোভাবে রিসার্চ করুন।