ডিজিটাল ফটোগ্রাফির সবচেয়ে বড় সুবিধা হয় নয় যে আপনি যত ইচ্ছে ছবি তুলতে পারেন এবং ১-ইঞ্চি স্টোরেজ ডিভাইসে সংরক্ষণ করতে পারেন। বরং সেরা সুবিধা হলো: আপনি EXIF ডেটা পরীক্ষা করে ভিন্ন ভিন্ন ক্যামেরা এবং তাদের ফিচার তুলনা করতে পারেন।
বিহ্বল? শুরু থেকে বলি, Exif মানে Exchange Image File Format—যে ডেটা ছবির ভিতরে সংরক্ষিত থাকে। অধিকাংশ আমরা জানি না যে প্রতিটি ডিজিটাল ফটো শুধু একটি ছবি নয়, সেটি নিয়ে থাকে ডিভাইস, সেটিংস, সময়, তারিখ, এবং যদি ডিভাইস ইন্টারনেটে সংযুক্ত থাকে তবে ছবি তোলার সঠিক লোকেশন কোঅরডিনেটও। এই তথ্য দুร্দান্ত উদ্দেশ্যে অপব্যবহার হতে পারে, কিন্তু ফটোগ্রাফারদের জন্য এটি সমান ফটো তুলনা করে দক্ষতা বাড়ানোর তথ্যের উৎস।
ফটো EXIF এডিটর কী?
Photo Exif Editor-এর মতো ইমেজ EXIF এডিটর অ্যাপ দিয়ে ফটোর মেটাডেটা দেখা জরুরি যাতে এর বিষয়বস্তু বুঝা যায়। Photo Exif Editor-এর কিছু ফিচার:
একাধিক ফটো সমর্থন
এই অ্যাপ্লিকেশন একসাথে অনেক ফটো (ব্যাচ) সাপোর্ট করে এবং সকলকে একসাথে গ্রুপ এডিট করা যায়।
একাধিক ফরম্যাট সমর্থন
Photo Exif Editor BMP, JPG, TIFF, এবং RAW ফরম্যাটও সাপোর্ট করে।
ডেটা পরিবর্তন/মডিফাই
যদি আপনি একটি ফটোর সকল EXIF/IPTC/XMP ফিল্ড এডিট করতে চান, তবে এটি সেরা পছন্দ।
দ্রুত প্রসেস
Photo EXIF Editor সহজ এবং দ্রুত অ্যাপ্লিকেশন। পরিবর্তন করার পর Save বাটনে ক্লিক করলেই বিদ্যমান ফটোর মেটাডেটা ইনস্ট্যান্টلي আপডেট হয়ে যায়।
তারিখ, সময় ও লোকেশন পরিবর্তন
সময়, তারিখ, লোকেশনের বিদ্যমান তথ্য পরিবর্তন করতে চাইলে এটি সহজে করে দেয়।
মেটাডেটা তুলনা
দুই ফটো তুলনা করে সকল তথ্য জানার জন্য এটি সেরা পছন্দ—দুই ফটোর প্রয়োজনীয় ডেটা পৃথক উইন্ডোতে দেখায়।
মেটাডেটা মুছুন
সোশ্যাল মিডিয়ায় ফটো শেয়ার করার জন্য সব মেটাডেটা ক্লিয়ার করে আপলোড করা বুদ্ধিমানের কাজ। ডাউনলোড করলেও কোনো ডেটা থাকবে না।
Photo Exif Editor কীভাবে ব্যবহার করবেন?
ধাপ ১: নিচের বাটন থেকে অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করুন।
ধাপ ২: সফটওয়্যার ইনস্টল করে চালু করুন।
ধাপ ৩: যে ফোল্ডার বা ছবি এডিট করতে চান সেটি যোগ করুন।
ধাপ ৪: অ্যাপ সব ছবি ইম্পোর্ট করবে এবং মেটাডেটা তথ্য দেখাবে। আমি প্রায় একই দুটি ছবি ইম্পোর্ট করলাম এবং তুলনা করলাম। এতে বুঝতে সহজ হয় কোন ছবি ভালো এবং কেন।
উপরোক্ত ছবিতে দুইটি ছবি দেখানো হয়েছে যেগুলো দুই সেকেন্ড ব্যবধানে তুলা হয়েছে এবং প্রধান পার্থক্য হলো ISO সেটিং—প্রথমে ২০০০, دومে ২৫০০। যদিও সেটিং অটো-এ ছিল, তবুও বোঝা যায় উচ্চ ISO-তে তুলা ছবি ভালো দেখায়।
ধাপ ৫: সব ছবি তুলনা করার পর F-number, Focal length, ফ্ল্যাশ, অরিয়েন্টেশন, স্যাচুরেশন ইত্যাদি সম্পর্কে নোট নিন এবং অ্যাপ থেকে বের হোন।
পেশাদার ফটোগ্রাফাররা প্রশিক্ষণের প্রারম্ভিক দিনে এই তথ্য ব্যবহার করেন যাতে বুঝতে পারেন বিভিন্ন লোকেশন ও আবহাওয়ায় কোন সেটিংস পরিবর্তন করতে হবে। আপনি যদি মোবাইল ক্যামেরা ব্যবহার করেন এবং অন্য মোবাইল ক্যামেরার সাথে তুলনা করতে চান, তবে দুইটি ভিন্ন ক্যামেরা দিয়ে একই ছবি তুলে মেটাডেটা তুলনা করুন।
সিদ্ধান্ত: EXIF ডেটা ব্যবহার করে ফটো তুলনা ও ফটোগ্রাফি দক্ষতা বাড়ানো
Photo Exif Editor একটি চমৎকার অ্যাপ্লিকেশন যা আপনার ছবির গোপন রহস্য উজাগর করে এবং ফটো তুলনা করে ফটোগ্রাফি দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে। একবার বুঝতে পারলে কেন একটা ছবি অন্যটির চেয়ে ভালো, তারপর সেই সেটিংস ম্যানুয়ালি আপনার ক্যামেরায় প্রয়োগ করুন সব ছবিতে। এতে ছবির গুণগত মান বেড়ে যাবে, কিন্তু আপনাকে সারউন্ডিংস—সূর্যালোক, পরিবেশ, ব্যাকগ্রাউন্ডও বিবেচনা করতে হবে ছবি তোলার সময়।