অ্যাপল বছরের পর বছর তার শ্রেণিসর্বোত্তম পণ্যগুলোর জন্য পরিচিত—আইফোন, আইপ্যাড, আইম্যাক এবং আরও অনেক কিছু। সবাই বলতে পারে অ্যাপল পণ্যগুলোর গুণমান ও পারফরম্যান্স সর্বোত্তম। কিন্তু কোনো ব্র্যান্ড একদিনে সফল হয় না, অ্যাপলের ক্ষেত্রেও একই কথা। আজ এই মुकামে পৌঁছানোর জন্য তাদের অসংখ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পণ্য বাজারে আনতে হয়েছে।
আমাদের অনেকেই জানি না অ্যাপল সবসময় এত সফল ছিল না। শুরুয়কালে তারা পরীক্ষামূলক ও অদ্ভুত কিছু পণ্য বাজারে আনেছিল। কি আপনি অবাক হলেন? কি মনে করেন টেক জায়েন্ট কখনো ভুল করতে পারে?
এই লেখায় ১১টি অদ্ভুত অ্যাপল পণ্যের তালিকা দেওয়া হলো যা আপনি احتمالতঃ জানতেন না।
১. ফ্লவர் পাওয়ার এবং ব্লু ডালমেশন আইম্যাক

অ্যাপল রংকে অনুরাগ দেখিয়ে ডালমেশন আইম্যাক লঞ্চ করেছিল। ব্লু ডালমেশন এবং ফ্লவர் পাওয়ার নামের বহুরঙিন প্যাটার্ন কেসের প্লাস্টিকে মোল্ড করা ছিল। স্ট্রবেরি, গ্রেপ, বন্ডি ব্লু, সেজ, ব্লুবেরি, রুবি, লাইম, ইন্ডিগো ট্যাঞ্জেরিন, গ্রাফাইট ইত্যাদি নানা রঙে এটি তৈরি হতো।
২. অ্যাপল ওয়ানস্ক্যানার

অ্যাপল ওয়ানস্ক্যানার ছিল একটি ফ্ল্যাটবেড স্ক্যানার সিরিজ যা ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে বাজারে এল। এর পরের বছর অ্যাপল পূর্বের স্ক্যানার বদলে ৮-বিট (২৫৬ শেড) গ্রেস্কেল স্ক্যানিংয়ের পণ্য আনা। ওয়ানস্ক্যানার সিরিজে এসসিআইインターフেস এবং ৬০০x১২০০ ডিপিআই রেজোলিউশন, ৩০-বিট কালার স্ক্যানিং ছিল—সেটাই সময়ে অনেক উন্নত। এটি স্বয়ংক্রিয় ও ম্যানুয়াল কন্ট্রোল দিয়েছিল। কিন্তু ১৯৯৭ সালে অ্যাপল পণ্যটি বন্ধ করল।
৩. অ্যাপল পাওয়ারসিডি

পাওয়ারসিডি মূলত ফিলিপ্স ডিজাইন করে অ্যাপল লোগো দিয়ে ব্র্যান্ডিং করেছিল। ১৯৯৩ সালে বাজারে এসেছিল কিন্তু কয়েক বছর পর অ্যাপল বিক্রি বন্ধ করল। এটি স্পিকার দিয়ে জોડলে ট্র্যাডিশনাল সিডি, কোডাক ফটো সিডি, ডেটা সিডি ও অডিও সিডি পড়তে পারত। ম্যাকের সাথে জોડলে ডেটা ডিস্কও পড়ে। ৯০-এর দশকে অ্যাপল ব্যবহারকারীদের প্রিয় বিনোদনের সাধন ছিল।
৪. সাইলেন্টাইপ অ্যাপল প্রিন্টার

১৯৭৯ সালে ঘোষণা করা এবং ১৯৮০ সালে মাত্র ৫৯৯ ডলারে বাজারে আসা এটি অ্যাপলের প্রথম প্রিন্টার। এটি একটি থার্মাল প্রিন্টার যেটি স্পেশাল কাগজ দরকার হতো এবং ৮০-কলাম আউটপুট দিত। অ্যাপল টু প্লাসের পর লঞ্চ হওয়ায় অ্যাপল থ্রি ব্যবহারকারীদের জন্যও কম্প্যাটিবল ছিল। অন্যান্য প্রিন্টারের চেয়ে দামে সস্তো।
৫. টোয়েন্টিয়েথ আніভার্সারি ম্যাকিনটোশ (১৯৯৭)

এটি একটি অতিমূল্যবান মেশিন যা 당시 সাধারণ মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্সও পার করত। অ্যাপলের ২০তম বর্ষপূর্তিতে ১৯৯৭ সালে লঞ্চ করা লিমিটেড এডিশন পিসি। এটিকে_many_over-engineered_পার্সোনাল কম্পিউটার বলা হতো।
৬. স olid রোজ গোল্ড অ্যাপল ইয়ারপডস

সাধারণ ইয়ারফোন নয়, এটি ১৮কি সলিড রোজ গোল্ড থেকে তৈরি লিমিটেড এডিশন যা বনোর প্রোডাক্ট (রেড) চ্যারিটির জন্য তৈরি হয়েছিল। সাধারণ ২৯ ডলারের ইয়ারপডসের ১৬,০০০ গুণ বেশি দামে। বিক্রয়ের দাম ২০,০০০-২৫,০০০ ডলার থেকে শুরু হয়ে ৪৬১,০০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে।
৭. অ্যাপল কুইকটেক ১০০ ক্যামেরা (১৯৯৪)

বিশ্বাস করা কঠিন কিন্তু অ্যাপল ক্যামেরা ব্যবসায়েও হাত أزমाइশ করেছিল। ১৯৯৪ সালে কুইকটেক ১০০ ক্যামেরা লঞ্চ করলেও তিন বছর পর বিক্রি বন্ধ করল। টাইম ম্যাগাজিন এটিকে 'প্রথম কনসিউমার ডিজিটাল ক্যামেরা' বলেছিল এবং ১৯২৩ থেকে বর্তমান পর্যন্ত '১০০টি সর্বোচ্চ প্রভাবশালী গ্যাজেট'-এ শुमार করেছিল।
৮. ম্যাকিনটোশ এক্সএল (১৯৮৫)

অ্যাপল লিসা ২/১০ পার্সোনাল কম্পিউটারের মডিফাইড ভার্সন ছিল ম্যাকিনটোশ এক্সএল। ১৯৮৫ সালে লঞ্চ হলেও অতিরিক্ত দামের কারণে চাহিদা কম ছিল। মাত্র তিন মাসে অ্যাপল পণ্যটি বন্ধ করল।
৯. অ্যাপল নিউটন (১৯৯৩-১৯৯৮)

অ্যাপল নিউটন ছিল পার্সোনাল ডিজিটাল অ্যাসিস্টেন্ট সিরিজ যা ১৯৯৩ সালে, আজ থেকে ২৫ বছর আগে তৈরি হয়েছিল। এটি প্রথম হ্যাঁডরাইটিং রিকগনিশন টুল হিসেবে পরিচিত। উদ্ভাবনী идея হলেও প্রাথমিক সমস্যা ও অতিরিক্ত দামের কারণে বিক্রি বাধা পেল। ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৮ সালে অ্যাপল বিক্রি বন্ধ ঘোষণা করল।
১০. অ্যাপল ক্লোদিং লাইন (১৯৮৬)

গ্যাজেট, মডেল, ইন্টারফেস ট্রাই করার পর অ্যাপল পোশাক ব্যবসায়েও হাত আজমাইশ করেছিল। স্টিভ জবসের কিছু ভুল আইডিয়াতেই একটি ছিল অ্যাপল কালেকশন। সুইটশার্ট, প্যাটার্নড শার্ট, পোলো, ক্যাপ, শিশু পোশাক সহ বিশাল রেঞ্জ ছিল। পোশাক ছাড়াও বেল্ট, ব্যাগ ইত্যাদি অ্যাকসেসরিতে ব্র্যান্ডের 컬্ট-লাইক ফলোয়ার ছিল।
১১. অ্যাপল পিপ্পিন (১৯৯৫-১৯৯৭)

১৯৯৬ সালে অ্যাপল একটি ওপেন মাল্টিমিডিয়া টেকনোলজি প্ল্যাটফর্ম লঞ্চ করেছিল। ম্যাকিনটোশ অপারেটিং সিস্টেম বেসড এই গেমিং প্ল্যাটফর্ম ১৯৯৬ সালে এসে ১৯৯৭ সালে বন্ধ হলেওário ৪২,০০০ ইউনিট বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছিল।
এই ছিল অ্যাপল যে পণ্যগুলো বাজারে আনলেও দীর্ঘদিন টিকতে পারল না। আপনি কি মনে করেন এই পণ্যগুলোর ভবিষ্যত ছিল? মন্তব্যে জানান।