পাথর যুগে একটি কাঠের ছড়ি মূল্যবান সম্পদ মনে হতো, কিন্তু ২১শ শতাব্দিতে স্মার্টফোনই সব। ডেমোগ্রাফিক পরিবর্তন বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন হলেও, স্মার্টফোন ব্যবহার আজ মানুষের মধ্যে সাধারণ একটি ফ্যাক্টর।
"বিশাল প্রযুক্তির সাথে বিশাল সমস্যা আসে" এবং আজ আমরা যে সমস্যায় পড়ি সেটি হলো স্মার্টফোন সমস্যায় আমাদের সুন্দর জীবন ভাঙতে। স্মার্টফোন আজ কিছু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বস্তু, যার nélkül আজকের বিশ্বে выживание প্রায় অসম্ভব।
সফটওয়্যার সমস্যার জন্য সেরা সমাধান হলো ফ্যাক্টরি রিসেট, যার পূর্বশর্তের একটি হলো স্মার্টফোন ডেটার নিয়মিত ব্যাকআপ নেওয়া। এটি ফিজিক্যাল ড্যামেজ, চুরি বা নতুন ফোন এক্সচেঞ্জের সময়ও কাজে লাগে। কিন্তু এই বড় সমাধান নেওয়ার আগে কিছু প্রाथমিকতা রেখে যেতে পারা যায় না।
আরও পড়ুন: অ্যান্ড্রয়েডে Snapchat লক করার ১০ সেরা অ্যাপ
১. ব্যাকআপ (Backup)

কেমব্রিজ ডিকশনারি ব্যাকআপকে সংজ্ঞা দিয়েছে "কম্পিউটারে সংরক্ষিত তথ্যের একটি কপি যা কম্পিউটারের আলাদা জায়গায় সংরক্ষিত থাকে"। 'কম্পিউটার' শব্দটি 'স্মার্টফোন' দিয়ে প্রতিস্থাপন করলে এই সংজ্ঞা প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। ফ্যাক্টরি রিসেটের আগে কন্টাক্ট, SMS, অ্যাপ পারচেজ, ক্যালেন্ডার, ফটো ইত্যাদির ব্যাকআপ নিতে হবে। প্রয়োজনীয় পারমিশন দিলে Google অটোমেটিক ব্যাকআপ নেয়। তবে কখনো নিজে দায়িত্ব নেওয়া ভালো, তাই জানতে হবে কী কী ব্যাকআপ নিতে হবে।
ক) কন্টাক্টস (Contacts)

এতে আপনার যোগাযোগের সব টেলিফোন নম্বর থাকে। সাধারণত সেগুলো SIM-এ থাকে এবং রিসেট বা নতুন ফোনে দিয়ে দেখা যায়। কিন্তু কখনো কখনো কন্টাক্ট ফোন মেমরিতে থাকে।
- এই মূল্যবান কন্টাক্ট হারাতে না চাইলে Google-র Backup & Restore ফেসিলিটি ব্যবহার করুন। একবার সিঙ্ক করলে কন্টাক্টের পাশাপাশি ক্যালেন্ডার, ফটো ও মিউজিকও এর সার্ভারে সেভ হয়। এটি দুটো-তিন ট্যাপে করা যায় এবং ফরম্যাট করা বা নতুন ডিভাইসে রিস্টোর করা যায়। রিসেটের আগে Settings > Accounts (Google ট্যাপ) > Google অ্যাকাউন্ট সিলেক্ট > সিঙ্ক করার সব অপশন চেক করে নিশ্চিত হোন।
- বিকল্পভাবে, .vcf ফাইল এক্সপোর্ট করে SD কার্ড/ফ্ল্যাশ ড্রাইভে রাখুন এবং ফরম্যাট করা বা নতুন ফোনে সেটি ইম্পোর্ট করুন। এটি ডিফল্ট 'Contacts' অ্যাপ দিয়ে করা যায়।
খ) SMS

ফরম্যাটের আগের মতো আপনার বেশীমূল্য SMS টেক্সট দেখতে চাইলে একমাত্র উপায় হলো ব্যাকআপ নেওয়া। এর জন্য থার্ড-পার্টি অ্যাপ লাগবে যা সব মেসেজ Google Drive-এ সেভ করে পরে রিস্টোর করবে। আমি Microsoft Corporation-এর SMS Organizer সুপারিশ করি, যা শুধু ব্যাকআপ ও রিস্টোর করবে না, কন্টেন্ট অনুযায়ী স্প্যাম, পারসোনাল, ট্রানজ্যাকশন ইত্যাদি ফোল্ডারে অর্গানাইজও করবে।
গ) অ্যাপ ডেটা (App Data). WhatsApp-এর মতো কিছু অ্যাপে ইন-অ্যাপ ব্যাকআপ ফিচার থাকে যেখানে সব চ্যাট ও কন্টেন্ট Google Drive-এ ব্যাকআপ নেওয়া যায় এবং ফরম্যাটের পর আবার WhatsApp ইনস্টল করলে রিস্টোর হয়। কিছু সফটওয়্যার বাদে সব অ্যাপের ব্যাকআপ নেওয়া পরামর্শ দেয়া হয় না, কারণ তাদের মধ্যে যেকোনো একটি ফ্যাক্টরি রিসেটের কারণ হতে পারে।
২. ফাইল ও ফোল্ডার কপি করুন
ফোন রিসেট করার আগে এক্সটার্নাল স্টোরেজ ড্রাইভের সাথে ফোন কানেক্ট করার পরামর্শ দেয়া হয়। কিছু বেসিক মোবাইল অ্যাকসেসরি লাগবে:

A) OTG কনেক্টরের সাথে SD কার্ড/ফ্ল্যাশ ড্রাইভ। নিশ্চিত করুন ফোন OTG ডেটা ট্রান্সফার সাপোর্ট করে এবং ড্রাইভ ১৬ GB-এর কম নয়।
অথবা
B) ডেটা কেবল। নতুন চার্জারগুলো দুটি ইউনিটে আসে— দেওয়াল সকেট USB পোর্ট এবং USB ও মাইক্রো USB কনেক্টরের তার। USB কনেক্টর কম্পিউটারের USB পোর্টে লাগালে ফোন এক্সটার্নাল ড্রাইভ হিসেবে এক্সেস হবে।
মূল উদ্দেশ্য হলো ফোনের কন্টেন্ট কপি করা— মিডিয়া ফাইল (ফটো, অডিও, ভিডিও), ডকুমেন্ট (ই-বুক, PDF, স্প্রেডশিট) এবং বিবিধ ফাইল (ইনস্টলেশন ফাইল .apk, কন্টাক্ট ফাইল .vcf এবং অন্যান্য অ্যাপ-স্পেসিফিক ফাইল)।
৩. ব্যাটারি পারসেন্টেজ ৭০%-এর বেশি হতে হবে

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ফ্যাক্টরি রিসেট করার আগে নিশ্চিত করুন ব্যাটারি ৭০%-এর বেশি, যাতে ফরম্যাটিং সুন্দরভাবে হয়। রিসেটের মাঝপথে ব্যাটারি খত্ম হলে ফোন ব্রিক হতে পারে।
৪. অ্যাপের তালিকা এবং স্ক্রিনশট

ফোনের পূর্বের লুক ফিরে আনার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সব গুরুত্বপূর্ণ থার্ড-পার্টি অ্যাপের তালিকা বানানো, যেগুলো পরে Play Store > My apps and games > Library- থেকে ইনস্টল করা যাবে। এছাড়া সব হোম স্ক্রিন এবং অ্যাপ লঞ্চার স্ক্রিনের স্ক্রিনশট নিলে ফরম্যাট করা ফোন আগের মতো সাজাতে সাহায্য मिलবে।
৫. মাইক্রো SD কার্ড বের করুন

সব ব্যাকআপ ও ফাইল কপি করার পর চূড়ান্ত ধাপ হলো ফোন থেকে মাইক্রো SD কার্ড বের করা, যাতে ফ্যাক্টরি রিসেটের সময় কার্ডের ফাইল অকস্মাত ডিলিট না হয়।
ফ্যাক্টরি রিসেট একটি অনবাতাবিক ক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া সাবধানতার সাথে চালাতে হবে এবং ডেটা Google সার্ভারে ব্যাকআপ রাখা সবসময় পরামর্শযোগ্য যাতে পরে রিস্টোর করা যায়। বিকল্পভাবে, SD কার্ডে ব্যাকআপ নেওয়া যায় এবং অধিকাংশ OEM আজ তাদের নিজস্ব ক্লাউড সার্ভারে ব্যাকআপ সুবিধা দেয়।