কি কখনো লাগলো যে শুধু একটি ইন্টারনেট কানেকশন যথেষ্ট নয়? যদি একাধিক ইন্টারনেট কানেকশন কম্বাইন করে সামগ্রিক স্পিড বাড়ানো যায়, তবে কেমন হত? আমরা সবসময় শুনি—‘জিতনো বেশি, ততনো ভালো।’
এটি একাধিক ইন্টারনেট কানেকশন কম্বাইন করার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। একাধিক কানেকশন কম্বাইন করা সম্ভব এবং এতে পৃথক পৃথক ইন্টারনেট স্পিডের সমষ্টিগত যোগফল পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, আপনার দুটি কানেকশন যদি ৫১২ KBPS স্পিড দেয়, তবে সেগুলো কম্বাইন করলে ১ MBPS স্পিড পাওয়া যাবে। এই প্রক্রিয়ায় মোট ডেটা খরচও পৃথক পৃথক ডেটা ব্যবহারের সমষ্টিগত যোগফল হবে। চমৎকার লाभদায়ক মনে হয়, ঠিক নাকি?
এই আর্টিকেলে আমরা একাধিক ইন্টারনেট কানেকশন কম্বাইন করার কথা বলব। আপনার কানেকশন তারযুক্ত (wired) হোক বা বেতার (wireless)—LAN, WAN, Wi-Fi, বা মোবাইল ইন্টারনেট—কোনো সমস্যা নেই। আপনি ভিন্ন ISP-এর নেটওয়ার্কও জয়েন করতে পারেন।
৩টি উপায় একাধিক ইন্টারনেট কানেকশন কম্বাইন করার
পদ্ধতি ১: উইন্ডোজ অটোমেটিক মেট্রিক সেট করে একাধিক ইন্টারনেট কানেকশন কম্বাইন করুন
এই পদ্ধতিতে ব্রডব্যান্ড, মোবাইল কানেকশন, OTA মডেম এবং অন্যান্য কানেকশন একসাথে কম্বাইন করা যায়। এখানে আমরা মেট্রিক ভ্যালু নিয়ে কাজ করব। মেট্রিক ভ্যালু হলো IP ঠিকানাগুলোর জন্য নির্ধারিত একটি মান যা কানেকশনে একটি নির্দিষ্ট IP রুট ব্যবহারের খরচ হিসাব করে।
যখন আপনি একাধিক ইন্টারনেট কানেকশন কম্বাইন করেন, উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম তাদের পৃথক পৃথক খরচ হিসাব করে প্রত্যেকের জন্য একটি মেট্রিক ভ্যালু নির্ধারণ করে। মেট্রিক অ্যাসাইন হলে, উইন্ডোজ খরচ-প্রভাবিতা ভিত্তিক একটি কানেকশনকে ডিফল্ট হিসেবে বেছে নেয় এবং বাকিগুলোকে ব্যাকআপ হিসেবে রাখে।
এখানেই রসওয়াল অংশ: যদি প্রতিটি কানেকশনের জন্য একই মেট্রিক ভ্যালু সেট করুন, তবে উইন্ডোজ বাধ্য হয় সবগুলো ব্যবহার করতে। কিন্তু কীভাবে করবেন? নিচের ধাপগুলো সাবধানে অনুসরণ করুন:
- প্রথমে কম্পিউটারে Control Panel খুলুন। এখন Network and Internet অপশনের অধীনে Network and Sharing Center-এ যান।
- Active Internet Connection-এ ক্লিক করুন (উদাহরণে Wi-Fi 3)।
- Wi-Fi Status উইন্ডোতে Properties বাটনে ক্লিক করুন।
- এখন Internet Protocol TCP/IP Version 4 সিলেক্ট করে Properties বাটনে ক্লিক করুন।
- Internet Protocol Version 4 (TCP/IPv4) উইন্ডো খুললে, Advanced বাটনে ক্লিক করুন।
- নতুন বক্সে Automatic Metric অপশনটি আনচেক করুন।
- Interface metric বক্সে ১৫ টাইপ করুন। অবশেষে OK ক্লিক করে পরিবর্তন সংরক্ষণ করুন।
- যে সব কানেকশন কম্বাইন করতে চান, সেগুলোর জন্য ধাপ ২-৬ পুনরাবৃত্তি করুন।
সব কানেকশনের জন্য কাজ শেষ হলে সব ডিসকানেক্ট করে কম্পিউটার রিস্টার্ট করুন। রিস্টার্টের পর সব ইন্টারনেট কানেকশন রিকানেক্ট করুন। বधাই! আপনি সফলভাবে সব ইন্টারনেট কানেকশন কম্বাইন করতে পেরেছেন।
পদ্ধতি ২: ব্রিজ কানেকশন ফিচার
উইন্ডোজ ব্রিজিং কানেকশন ফিচারও অফার করে। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: এই পদ্ধতির জন্য কমপক্ষে দুটি সক্রিয় LAN/WAN কানেকশন থাকতে হবে। ব্রিজিং ফিচার LAN/WAN কানেকশনগুলো কম্বাইন করে। আপনার একাধিক ইন্টারনেট কানেকশন কম্বাইন করতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
- প্রথমে Control Panel খুলে Network and Sharing Center-এ যান।
- বাম মেনু থেকে Change Adapter Settings ক্লিক করুন।
- এখানে আপনার সকল সক্রিয় ইন্টারনেট কানেকশন সিলেক্ট করুন। CTRL বাটন ধরে রেখে একসাথে একাধিক নেটওয়ার্ক কানেকশনে ক্লিক করুন।
- রাইট-ক্লিক করে উপলব্ধ অপশন থেকে Bridge Connections বেছে নিন।
- এটি একটি নতুন নেটওয়ার্ক ব্রিজ তৈরি করবে যা আপনার সকল সক্রিয় ইন্টারনেট কানেকশন কম্বাইন করে।
দ্রষ্টব্য: এই পদ্ধতিতে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ পারমিশন চাইতে পারে। অনুমতি দিয়ে ব্রিজ তৈরি করুন। কম্পিউটার রিস্টার্ট করার প্রয়োজন নেই।
পদ্ধতি ৩: লোড ব্যালেন্সিং রাউটার কিনুন
যদি কিছু টাকা খরচ করতে কোনো সমস্যা না হয়, তবে লোড ব্যালেন্সিং রাউটার কিনতে পারেন। বাজারে সহজে কয়েকটি রাউটার পাওয়া যায়। খরচ ও জনপ্রিয়তার দৃষ্টিতে TP-Link-এর লোড ব্যালেন্সিং রাউটার অধিকাংশের পছন্দ।
TP-Link-এর লোড ব্যালেন্সিং রাউটারে চারটি WAN স্লট থাকে। একাধিক কানেকশন কম্বাইন করলে এটি সেরা ইন্টারনেট স্পিড গ্যারান্টি করে। বাজারে TP-Link-এর TL-R480T+ রাউটার ৬৫ ডলারে পাওয়া যায়। রাউটারের দেওয়া পোর্টগুলো দিয়ে সব কানেকশন জয়েন করুন। সব পোর্ট রাউটারের সাথে সংযুক্ত হলে কম্পিউটারে কানেকশন সেটআপ করতে হবে।
রাউটার সেটআপ শেষ হলে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
- ইউজার ম্যানুয়াল অনুসরণ করে কনফিগারেশন পেজে যান।
- এখন Advanced section-এ গিয়ে Load Balancing-এ ক্লিক করুন।
- Enable Application Optimized Routing অপশনটি আনচেক করুন।
চেক করুন রাউটারের অ্যাসাইন করা IP ঠিকানা আপনার কম্পিউটারের WAN কানেকশনের ডিফল্ট অ্যাড্রেসের সাথে মিলছে কিনা। যদি মিলে, রাউটারের IP পরিবর্তন করুন। টাইমআউট এরর এড়াতে MTU (Maximum Transmission Unit) সেট করুন।
উপরোক্ত পদ্ধতিগুলো ছিল কম্পিউটারে একাধিক ইন্টারনেট কানেকশন কম্বাইন করার কিছু সেরা প্র্যাকটিক্যাল উপায়। আপনি যেকোনো একটি পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন, আমরা আশাবাদী আপনি সহজেই আপনার কানেকশনগুলো কম্বাইন করতে পারবেন। এই বাইরে থার্ড-পার্টি সফটওয়্যারও ব্যবহার করতে পারেন। শুধু সফটওয়্যার ডাউনলোড ও ইনস্টল করে দেওয়া ধাপগুলো অনুসরণ করুন।
থার্ড-পার্টি সফটওয়্যার চাইলে Connectify বেছে নিতে পারেন। এই সফটওয়্যারে দুটি প্রোগ্রাম থাকে:
- Connectify Hotspot: এটি আপনার কম্পিউটাকে হটস্পটে পরিণত করে, যাতে অন্যরা কম্পিউটার থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে।
- Connectify Dispatch: এটি আপনার ডিভাইসের সকল উপলব্ধ ইন্টারনেট কানেকশন কম্বাইন করে।
সুতরাং, একাধিক ইন্টারনেট কানেকশন কম্বাইন করতে Connectify Dispatch বেছে নিন। এই সফটওয়্যার ফ্রি ব্যবহার করা যায় এবং কোনো ক্ষতির ঝুঁকি নেই।
সুপারিশ:
- Waze এবং Google Maps অফলাইন ব্যবহার
- উইন্ডোজ ১০-এ YourPhone.exe প্রসেস কী?
- WhatsApp গ্রুপ কন্টাক্ট এক্সট্র্যাক্ট করার পদ্ধতি
আশা করি আমরা আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। উপরের যেকোনো পদ্ধতিতে সমস্যা হলে বेझিঝক আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।