"ফ্রিওয়্যার" শব্দটি প্রায় চার দশক আগে এন্ড্রু ফ্লুগেলম্যান (একজন প্রোগ্রামার) IBM PC-র জন্য PC-Talk প্রোগ্রাম তৈরি করলে ব্যবহার করা হয়, যদিও এটি প্রাথমিকভাবে ফ্রি ডিস্ট্রিবিউট করা হয়নি। কিছু মাস পর মাইক্রোসফট সফটওয়্যার ডেভেলপার বব ওয়্যালেস PC-Write ওয়ার্ড প্রসেসর তৈরি করলেন এবং এটি "শেয়ারওয়্যার" নামে ডাকা করলেন কারণ এটি ফ্রি ডিস্ট্রিবিউট করা হতো না।
আদর্শভাবে, ফ্রিওয়্যার (ফ্রি সফটওয়্যার) সম্পূর্ণ ফ্রি, কোনো ফিচার বা টাইম লিমিট ছাড়া। শেয়ারওয়্যার হলো কমার্শিয়াল সফটওয়্যারের প্রিভিউ ভার্সন—ফিচার, টাইম, ইউজেজ লিমিট এবং অন্যান্য বাধা থাকে যাতে ফুল ভার্সন কেনতে বাধ্য হোন।
প্রতিটি টার্মকে আলাদা করেই উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করব এবং পার্থক্য দেখাব।
ফ্রিওয়্যার কী?
ফ্রিওয়্যার = "Free" + "Software"। এটি ১০০% ফ্রি, কোনো পেইড লাইসেন্স, ফি, এক্সপায়ারেশন ডেট বা ইউজ রেস্ট্রিকশন নেই।
এটি "ফ্রি সফটওয়্যার"-এর সাথে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। ফ্রি সফটওয়্যার ইউজারকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়—প্রোগ্রামের কোর এলিমেন্ট পরিবর্তন, রিরাইট, ওভাররাইট যেকোনোভাবে করা যায়।
ফ্রিওয়্যার ফ্রি টু ইউজ, কপিরাইটেড, কিন্তু ফ্রি সফটওয়্যার কপিরাইট-ফ্রি এবং কোনো বাধা নেই। ফ্রি সফটওয়্যারের সোর্স কোড ওপেন থাকতে হয়। উদাহরণ: LibreOffice, GIMP। এটি লেগালি রিডিস্ট্রিবিউটেবল এবং ইউজার প্রফিট করতে পারে।
ফ্রিওয়্যার সম্পূর্ণ ফ্রি কিন্তু কপিরাইটেড, সোর্স কোড বোর জন্য উপলব্ধ থাকতে পারে বা নাও থাকতে পারে। ফ্রি সফটওয়্যার সেটা নয়—এটি এডিট বা মডিফাই করে নতুন প্রোগ্রাম বানানো যাবে না।
কমার্শিয়াল ইউজে রেস্ট্রিকশন থাকতে পারে (প্রাইভেট ইউজ ফ্রি)। পেইড এডিশন থাকলে ফ্রি ভার্সনে কম ফিচার দিয়ে থাকে।
সাধারণত ডেভেলপাররা কমার্শিয়াল এবং ফ্রি ভার্সন রাখেন—ফ্রি ভার্সন দিয়ে কমার্শিয়াল ভার্সন বিজ্ঞাপন করা হয়। ফ্রি ভার্সনে অ্যাড থাকতে পারে, কিছু ফিচার লক থাকতে পারে (লাইসেন্স কিনলে আনলক)।
ফ্রিওয়্যার উদাহরণ
ফ্রিওয়্যার বিভিন্ন সোর্স থেকে আসে: PC গেম, ড্রাইভার আপডেটার, ডেটা ডিস্ট্রাকশন, মোবাইল অ্যাপ, অ্যান্টিভাইরাস, ইমেজ এডিটর ইত্যাদি।
Skype, Google Chrome, Adobe Acrobat Reader, CCleaner, AOMEI Backupper—প্রচলিত উদাহরণ। আমাদের "৯৯টি সেরা ফ্রিওয়্যার প্রোগ্রাম" লিস্টও দেখুন।
শেয়ারওয়্যার কী?
শেয়ারওয়্যার হলো কমার্শিয়াল সফটওয়্যার যা ফ্রিতে উপলব্ধ কিন্তু শেয়ার করার জন্য ডিজাইন করা। ডেভেলপাররা ট্রায়াল বেসিস বা লিমিটেড ফরম্যাটে (এক্সপায়ারি ডেট সহ) ডিস্ট্রিবিউট করেন যাতে ইউজার টেস্ট করে ফুল ভার্সন কিনে।
উদাহরণ: নতুন গেম লিমিটেড বেসিসে রিলিজ করা হয় যাতে গেমাররা এক্সপেরিয়েন্স করে শেয়ার করে ফুল ভার্সন কিনে।
ফ্রিওয়্যার অনলিমিটেড টাইম ফ্রি, শেয়ারওয়্যার লিমিটেড টাইম ফ্রি। শেয়ারওয়্যার-এ ফুল ফাংশনালিটি লাইসেন্স কিনলে মात्र পাওয়া যায়। অধিকাংশ শেয়ারওয়্যার বারবার ফুল ভার্সন কেনতে বলে (ন্যাগ)।
কিছু ডেভেলপার লগইন স্ক্রিন, প্রোডাক্ট কি, লাইসেন্স ফাইল দিয়ে প্রিমিয়াম আপগ্রেড দেন।
শেয়ারওয়্যার প্রকার ও উদাহরণ
- ফ্রিমিয়াম/লাইটওয়্যার: বেসিক ফ্রি, প্রিমিয়াম ফিচার পেইড। ইউজ টাইম/ইউজার টাইপ (স্টুডেন্ট/বিজনেস) লিমিট। উদাহরণ: CCleaner (স্ট্যান্ডার্ড ফ্রি, শিডিউল্ড ক্লিনিং/প্রিমিয়াম সাপোর্ট পেইড)।
- এডওয়্যার: ইনস্টলারে অ্যাড থাকে। পপ-আপ বা ইন-প্রোগ্রাম অ্যাডও এডওয়্যার।
- ডেমোওয়্যার: ফ্রি ট্রায়াল বা প্রাইমারি ফাংশন ক্রিপলড (পেইড না হলে)।
- ন্যাগওয়্যার: বারবার পেমেন্ট রিমাইন্ডার/আপগ্রেড সাজেশন (পপ-আপ/অ্যাড)। কিছু ফ্রি অ্যান্টিভাইরাস (AVG, Avira) ন্যাগওয়্যার।
- ডোনেশনওয়্যার: ফ্রি কিন্তু স্মল ডোনেশন দিয়ে পেইড ফিচার আনলক।
প্রচলিত শেয়ারওয়্যার: WinRAR, AnyDVD, Adobe/Microsoft প্রোগ্রাম, কিছু অ্যান্টিভাইরাস।
শেয়ারওয়্যারে সিকিউরিটি রিস্ক (ম্যালওয়্যার) থাকতে পারে—সাইবার ক্রিমিনাল লেজিট লিংক/অ্যাড দিয়ে ম্যালওয়্যার পেজে রিডিরেক্ট করে। ফুলি লাইসেন্সড না হলে আপডেট/প্যাচ নেই, সিস্টেম রিস্কে পড়ে।
সারসংক্ষেপ: ফ্রিওয়্যার বনাম শেয়ারওয়্যার পার্থক্য
- কপিরাইট ও ওনারশিপ: ফ্রিওয়্যার কপিরাইটেড, অনলিমিটেড টাইম ফ্রি, ডেভেলপার ওনারশিপ রাখেন। শেয়ারওয়্যার কপিরাইটেড, লিমিটেড ইভালুয়েশন পিরিয়ড ফ্রি।
- খরচ: ফ্রিওয়্যার নিঃশুল্ক ডাউনলোড। শেয়ারওয়্যার ট্রায়াল পর ফুল ভার্সন কেনতে হয়।
- ফিচার: ফ্রিওয়্যার সব ফিচার আনলকড। শেয়ারওয়্যার লিমিটেড ফিচার (লাইসেন্স কিনলে ফুল)۔
- পারমিশন: ফ্রিওয়্যার ফুলি ফাংশনাল, ডাউনলোড/কপি ফ্রি (সোর্স কোড সাধারণত দিয়ে না যাতে মডিফাই করা যায় না)। শেয়ারওয়্যার লিমিটেড টাইম ট্রায়াল, শেয়ার করার অনুমতি।