সবাই "ক্লাউড" শুনেছেন, অধিকাংশ জানেন ক্লাউড কম্পিউটিং মানে ইন্টারনেট কানেকশন দিয়ে সফ্টওয়্যার ও সার্ভিস অ্যাক্সেস করা। কিন্তু ক্লাউড কম্পিউটিং-র অনেক টাইপ রয়েছে যাদের আলাদা উদ্দেশ্য ও সুবিধা রয়েছে।
ক্লাউড কম্পিউটিং-এর মূল প্রকারভেদ
"টাইপ" বলতে দুটি জিনিস বোঝাতে পারে। একটা হলো টেকনোলজি কী কাজে লাগবে—এই আর্টিকেলের অধিকাংশ সেটাই। কিন্তু প্রথমে আর্কিটেকচার অনুযায়ী ক্লাউড কম্পিউটিং তিন প্রকারে ভাগ করা যায়।
১. Infrastructure as a Service (IaaS)
অন-ডিমান্ড ডেটা সেন্টার রিসোর্স। সফ্টওয়্যার আপনিই লোড/লিখবেন। নিজের ডেটা সেন্টার কেনার মতো, কিন্তু হার্ডওয়্যার ভাড়াটে নিচ্ছেন।
২. Platform as a Service (PaaS)
ক্লাউড অ্যাপ ডেভেলপ করতে চান কিন্তু ক্লাউডে OS বা ডেভেলপমেন্ট এনভাॅयरনমেন্ট মেইনটেইন করতে চান না—তখন PaaS। আপনার ক্লাউড সার্ভিস/অ্যাপ বানানোর টুলস দিয়ে দেবে।
৩. Software as a Service (SaaS)
আপনি যদি ক্লাউড প্রোভাইডার বা ডেভেলপার না হন, তবে SaaS সবচেয়ে कॉमन টাইপ। নিচের অধিকাংশ টাইপ SaaS-ই, এন্ড-ইউজার সুবিধার্থে।
৪. রিমোট কম্পিউটার রেন্টাল
ডেটা সেন্টারের একটি কম্পিউটার এক্সক্লুসিভ বা শেয়ার্ড এক্সেস পাওয়ার জন্য ভাড়া দিন। এটি রিমোট ডেস্কটপ দিয়ে হোম কম্পিউটার এক্সেস করার মতো, কিন্তু কম্পিউটার কেনার বা মেইনটেইন করার ঝামেলা নেই—২৪/৭ আপলোড রাখার দায় দায়িত্ব অন্যের, একমুশত ফি দিয়ে।
যাদের যেনে কম সময় নির্দিষ্ট হার্ডওয়্যার দরকার বা বারবার আপগ্রেডের ঝামেলা চান না—সেদের জনপ্রিয়। উদাহরণ: ক্লাউডে Mac ভাড়া, বা সুপার-ফাস্ট ওয়ার্কস্টেশন ভাড়া নিয়ে নম্বর ক্রাঞ্চ করে রেজাল্ট পাওয়া।
৫. ক্লাউডে ভার্চুয়াল মেশিন
ফিজিক্যাল কম্পিউটার না ভাড়া করেই একই ফিজিক্যাল মেশিনে অন্য অনেক VM-এর পাশাপাশি একটি VM রান করানো। অনেক ইউজারের জন্য পার্থক্য মানে না, সস্তা অপশন নেন। কিন্তু ফিজিক্যাল কম্পিউটার এক্সক্লুসিভ ভাড়া করলে গ্যারান্টিয়ড পারফরম্যান্স मिलে।
৬. নেটিভ ক্লাউড অ্যাপ্লিকেশন
যে অ্যাপ ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ওপর রান করে এবং শুরু থেকে সেভাবেই ডিজাইন করা হয়েছে। ক্লাউডে ভাড়ার VM-এ Microsoft Word চালানো নেটিভ ক্লাউড অ্যাপ নয়। কিন্তু ব্রাউজারের Office 365 Word অ্যাপ, Gmail, এবং ডেইলি ব্যবহৃত ক্লাউড সার্ভিসগুলো নেটিভ ক্লাউড অ্যাপ।
৭. ক্লাউড স্টোরেজ
লোকাল হার্ড ড্রাইভ বা এক্সটার্নাল ড্রাইভের বদলে রিমোট কম্পিউটারে ক্লাউড সার্ভিস দিয়ে ফাইল সেভ করা। শুধু "আকাশে এক্সটার্নাল ড্রাইভ" নয়—আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী রिडান্ড্যান্ট কপি আলাদা লোকেশনে, ফাইল সার্চ/এডিট করার ক্ষমতা।
উদাহরণ: Google Drive, OneDrive, Dropbox, iCloud।
৮. সোশ্যাল মিডিয়া
ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম—এই সার্ভিসগুলো ক্লাউড সার্ভিস। আপনার ডেটা ও অধিকাংশ কম্পিউটিং ক্লাউডে থাকে।
৯. এন্টারটেইনমেন্ট স্ট্রিমিং সার্ভিস
Spotify, Netflix—এই সার্ভিসগুলো ক্লাউড। ডিভাইসে অ্যাপ কিছু কাজ করে, অধিকাংশ ভার ডেটা সেন্টারে। অন-ডিমান্ড কন্টেন্ট, ইন্টারনেট অনুযায়ী কোয়ালিটি অ্যাডজাস্ট, পারসোনাল ডেটা দিয়ে রিকমেন্ডেশন।
ক্লাউড গেমিংও এখন: Xcloud, GeForce Now, Stadia—কনসোল বা গেমিং পিসি ছাড়া ব্রাউজার+কন্ট্রোলার দিয়ে গেমিং। নতুন টেকনোলজি, বাগ রয়েছে, কিন্তু দ্রুত ইন্টারনেট থাকলে ট্রাই করা যায়।
১০. ডিসেন্ট্রালাইজড ক্লাউড সার্ভিস
ট্রাডিশনাল ক্লাউড সেন্ট্রালাইজড ডেটা সেন্টারে নির্ভরশীল—প্রাইভেসি চিন্তা রয়েছে। Google Docs-এ ডকুমেন্ট সার্চ করা মানে Google সেটি পড়তে পারে। প্রাইভেসি লয় ও পলিসি ছাড়া কোনো বাস্তব বাধা নেই।
এখান থেকে ডিসেন্ট্রালাইজড ক্লাউড প্রোভাইডারের ধারণা। Graphite Docs (এখন বন্ধ) সেরা উদাহরণ—Google Docs-র মতো, কিন্তু ব্লকচেইন টেকনোলজি দিয়ে হোস্ট ও এনক্রিপশন। প্রাইভেসি চিন্তা ছাড়া ক্লাউড প্রোডাক্টিভিটি। ২০২০-এ বন্ধ হলেও সোর্স কোড ওপেন সোর্স।
অন্য ডিসেন্ট্রালাইজড অপশন: Stacks (পুরনো Blockstacks)—ব্লকচেইন-ভিত্তিক কারেন্সি সংযুক্ত "dapps" (ডিসেন্ট্রালাইজড অ্যাপস) লিখতে দেয়।
মাথা ক্লাউডে রাখা জীবন
পার্সোনাল কম্পিউটার সবসময় থাকবে, কিন্তু ভবিষ্যত সবচেয়ে বেশি ক্লাউড-ভিত্তিক হবে। ইন্টারনেট সারা পৃথিবী কভার করলে ক্লাউড সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কম্পিউটার টেকনোলজি হবে।