আপনার ফোন কি ধীরে ধীরে চলে? কি বারবার চার্জ করতে হচ্ছে? কি লাগছে ফোনটা আগের মতো সুন্দরভাবে চলছে না? আপনার উত্তর যদি 'হ্যাঁ' হয়, তবে আপনাকে অবশ্যই ব্যাকগ্রাউন্ডে চলমান অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপগুলো বন্ধ করতে হবে। সময়ের সাথে সাথে অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসগুলো ধীর হয়ে যায়। ব্যাটারি দ্রুত শুকিয়ে যায়। এমনকি টাচ রেসপন্সও ভালো লাগে না। এ সবই পর্যাপ্ত র্যাম এবং সিপিইউ রিসোর্সের অভাবের কারণে হয়।
ফোন ধীর হওয়ার মূল কারণ হলো ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপগুলো। আপনি যখন কোনো অ্যাপ ব্যবহার শেষ করে বের হয়ে আসেন, তখনও সেটি ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে, র্যাম ক্যাপচার করে এবং ব্যাটারি শোষণ করে। এতে আপনার ডিভাইসের পারফরম্যান্স খারাপ হয় এবং ল্যাগ অনুভব করেন। পুরনো ডিভাইসের ক্ষেত্রে সমস্যাটি বেশি দেখা যায়। কিন্তু এর মানে এটা নয় যে আপনাকে এখনই ফোন বদলাতে হবে। ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ বন্ধ করে ডিভাইসের পারফরম্যান্স বাড়ানোর অনেক উপায় রয়েছে। এই আর্টিকেলে আমরা সেগুলো বিস্তারিত আলোচনা করব।
অ্যান্ড্রয়েডে ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ বন্ধ করার পদ্ধতি
১. রিসেন্ট ট্যাব থেকে ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ বন্ধ করুন
ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ বন্ধ করার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে রিসেন্ট অ্যাপস সেকশন থেকে সেগুলো সরিয়ে দেয়া। এটি র্যাম খালি করে ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়ানোর খুব সহজ পদ্ধতি। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
- রিসেন্ট অ্যাপস সেকশন খুলুন। পদ্ধতিটি ডিভাইস অনুযায়ী ভিন্ন হয়। নেভিগেশন টাইপের ওপরও নির্ভর করে—জেসচার, সিঙ্গল বাটন বা স্ট্যান্ডার্ড থ্রি-বাটন নেভিগেশন।
- এখন আপনি ব্যাকগ্রাউন্ডে চলমান বিভিন্ন অ্যাপ দেখতে পাবেন।
- লিস্ট স্ক্রল করে যে অ্যাপটি আপনার আর দরকার নেই সেটি বেছে নিন।
- সহজে অ্যাপটিকে উপরে টেনে তুলে সরিয়ে দিন। এই ধাপটি আপনার ফোনে ভিন্ন হতে পারে। প্রতিটি অ্যাপ উইন্ডোর উপরে ক্লোজ বাটন থাকতে পারে, অথবা অন্য দিকে স্লাইড করতে হতে পারে।
- আপনার ফোনে 'ক্লিয়ার অল' বাটন বা ডাস্টবিন আইকন থাকলে সেটি ক্লিক করে একসাথে সব অ্যাপ বন্ধ করতে পারেন।
২. কোন অ্যাপগুলো ব্যাটারি শোষণ করছে তা যাচাই করুন
সিস্টেমকে ধীর করে দেয়ে কোন অ্যাপগুলো দায়ী তা ঠিকমতো শনাক্ত করতে হলে আপনাকে ব্যাটারি কনসাম্পশন লগ দেখতে হবে। এতে প্রতিটি অ্যাপ কত ব্যাটারি খাচ্ছে সেটি জানা যাবে। কোনো অ্যাপ অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি ব্যাটারি খাচ্ছে দেখলে সেটি সহজে ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে বন্ধ করে দিতে পারেন। এটি একটি কার্যকর ডায়াগনস্টিক পদ্ধতি। ধাপগুলো:
- ফোনের সেটিংস-এ যান।
- ব্যাটারি অপশন-এ ক্লিক করুন।
- ব্যাটারি ইউজ অপশন সিলেক্ট করুন।
- এখন অ্যাপগুলোর তালিকা এবং তাদের পাওয়ার কনসাম্পশন দেখতে পাবেন। এতে বুঝতে পারবেন কোন অ্যাপগুলো বন্ধ করে রাখতে হবে।
এই অ্যাপগুলো বন্ধ করার আরও অনেক পদ্ধতি রয়েছে। নিচে সেগুলো আলোচনা করা হলো।
আরও পড়ুন: রেটিংসহ অ্যান্ড্রয়েডের জন্য ৭টি সেরা ব্যাটারি সেভার অ্যাপ
৩. অ্যাপ ম্যানেজারের সাহায্যে অ্যাপ বন্ধ করুন
অ্যাপ ম্যানেজার ইনস্টল করা অ্যাপগুলোর তালিকা দেখায়, কোনগুলো চলছে সেটিও জানায় এবং ক্লোজ/স্টপ করার অপশন দেয়। দরকার নেইলে আনইনস্টল ও করা যায়। ধাপগুলো:
- ফোনের সেটিংস খুলুন।
- অ্যাপস অপশন-এ ক্লিক করুন।
- সকল ইনস্টল্ড অ্যাপের তালিকা দেখবেন।
- পূর্বে যেসব অ্যাপ বেশি ব্যাটারি খাচ্ছে সেগুলো খুঁজে বের করুন।
- অ্যাপটিতে ক্লিক করলে ফোর্স স্টপ অপশন পাবেন। চাইলে আনইনস্টল ও করতে পারেন।
৪. ডেভেলপার অপশন ব্যবহার করে অ্যাপ বন্ধ করুন
ডেভেলপার অপশন দিয়েও ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ বন্ধ করা যায়। প্রথমে ডেভেলপার অপশন অনলক করতে হয়:
- সেটিংস খুলুন।
- সিস্টেম অপশন-এ ক্লিক করুন।
- আবাউট ফোন সিলেক্ট করুন।
- বিল্ড নাম্বার-এ ৬-৭ বার ট্যাপ করুন যতক্ষণ না "আপনি এখন একজন ডেভেলপার" মেসেজ আসে।
ডেভেলপার মোড অনলক হলে ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ বন্ধ করতে নিচের ধাপগুলো করুন:
- সেটিংস-এ যান।
- সিস্টেম ট্যাব খুলুন।
- ডেভেলপার অপশন-এ ক্লিক করুন।
- নিচে স্ক্রল করে রানিং সার্ভিসেস-এ ক্লিক করুন।
- ব্যাকগ্রাউন্ডে চলমান এবং র্যাম ব্যবহারকারী অ্যাপের তালিকা দেখবেন।
- যে অ্যাপ বন্ধ করতে চান সেটিতে ক্লিক করুন।
- স্টপ বাটন চাপুন। অ্যাপটি বন্ধ হয়ে যাবে।
এভাবে সব রিসোর্স খাওয়া অ্যাপগুলো বন্ধ করে দিন।
৫. অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম আপডেট করুন
অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমকে লেটেস্ট ভার্সনে আপডেট করলে ডিভাইস পারফরম্যান্স ও ব্যাটারি লাইফ উন্নত হয়। প্রতিটি আপডেটে অপ্টিমাইজেশন ফিচার বাড়ে, ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ অটোমেটিক বন্ধ হয় এবং র্যাম ফ্রি হয়। অ্যান্ড্রয়েড পাই বা তার উপরের ভার্সনে আপগ্রেড করলে অ্যাডাপ্টিভ ব্যাটারি ফিচার পাওয়া যায়, যা মেশিন লার্নিং দিয়ে আপনার ব্যবহার বুঝে অ্যাপগুলোর স্ট্যান্ডবাই টাইম ফিক্স করে দেয়।
আপডেট করার ধাপ:
- সেটিংস-এ গিয়ে সিস্টেম বা আবাউট ডিভাইস সিলেক্ট করুন।
- নতুন আপডেট আছে কিনা চেক করুন। নোট: আপডেট ডাউনলোডের সময় ওয়াই-ফাই ব্যবহার করুন।
- আপডেট পেলে ডাউনলোড দিয়ে ইনস্টলেশন পুরো হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
৬. বিল্ট-ইন অপ্টিমাইজার অ্যাপ ব্যবহার করুন
বেশিরভাগ অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে বিল্ট-ইন অপ্টিমাইজার অ্যাপ থাকে। এটি অটোমেটিক র্যাম ক্লিয়ার করে, ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ বন্ধ করে, জাঙ্ক ফাইল ও ক্যাশ মুছে ফেলে। ব্যাটারি লাইফ ও বাড়ায়। ব্যবহার পদ্ধতি:
- অপ্টিমাইজার অ্যাপটি মেইন স্ক্রিনে বা অ্যাপ ড্রোয়ারে থাকবে। সেটি খুলুন।
- অপ্টিমাইজ অপশন-এ ক্লিক করুন।
- ফোনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস বন্ধ করে অন্য অপ্টিমাইজেশন করবে।
- শেষে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট দেখাবে।
৭. থার্ড-পার্টি অপ্টিমাইজার অ্যাপ ব্যবহার করুন
যদি বিল্ট-ইন অপ্টিমাইজার ভালো না হয়, প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করা যায়। এমন অনেক অ্যাপ রয়েছে যা অনুপযোগী ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ ধরে বন্ধ করে দেয়। একক্লিকে সব বন্ধ করার উইজেটও থাকে। Greenify একেই এমন অ্যাপ, যা মেমরি ও পাওয়ার ইউজ মॉनিটর করে অ্যাপগুলো হাইবারনেট করে দেয়। রুট অ্যাক্সেস দিলে আরও ভালো কাজ করে।
সুপারিশ: অ্যান্ড্রয়েডে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিজেবল করার পদ্ধতি
থার্ড-পার্টি অ্যাপের সমস্যা হচ্ছে সেগুলো নিজে ব্যাকগ্রাউন্ডে চলে অন্য অ্যাপ বন্ধ করতে, যা কাউন্টার-প্রোডাক্টিভ হতে পারে। সেটি ইনস্টল করে নিজে টেস্ট করুন। যদি ফোন আরও ধীর হয়, তবে আনইনস্টল করে দিন।