বয়স্করা কিশোরদের অনলাইন আচরণ ও গোপনীয়তা সম্পর্কে পরামর্শ দিতে পারে না। কিশোরদের নিজেদের নিজে বুঝতে দিলে ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে।
তুমি কিশোর, এটি পড়ো
গোপনীয়তা সম্পর্কে সচেতন হওয়াই প্রথম ধাপ। আমরা দেখাব কীভাবে রক্ষা করব। বিস্তারিত জানতে লিংকগুলো নতুন ট্যাবে খুলে পড়ো—ফেইসবুক গোপনীয়তা এক্সপার্ট হয়ে যাবে।
ফেইসবুক গোপনীয়তা
ফ্রেন্ড লিস্ট বানানো সেরা টুল। আমাদের পূর্ণ গাইড পড়ো। টাইমলাইন, অ্যাপ, গ্রাফ সার্চ গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রণ জানো। ১৮ বছরের নিচে ফেইসবুক কিছু সুরক্ষা দেয়, কিন্তু ১৮ হলে সেটি বন্ধ হয়ে যায়।
শারীরিক সুরক্ষার জন্য গোপনীয়তা
অজানা লোকরা কোথায় বাস/পড়াশোনা/কাজ/আড্ডা দেন সেটি জানলে তোমাকে ফলো/হারাস/আক্রমণ করতে পারে। একবার তথ্য বের হলে বাসা বদলাতে হয়ে পারে।
- স্কুল, ঠিকানা, কর্মস্থল, প্রিয় জায়গা কাউকে বলো না।
- প্রোফাইলে এই তথ্য শুধু ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের রাখো বা লিখো না।
- ছবিতে জিও-ট্যাগিং বন্ধ রাখো।
- নিয়মিত যাওয়া জায়গায় পাবলিক চেক-ইন করো না।
- ফটো/চেক-ইন ট্যাগ টাইমলাইনে দেখানোর আগে অনুমোদন নাও বা ট্যাগিং বন্ধ করো।
ফ্রেন্ড অফ ফ্রেন্ডের সাথে রিয়েল লাইফে মিটিং প্ল্যান করলে পেরেন্টসকে বলো। এভাবে অনেক কিশোর হত্যাকাণ্ড শুরু হয়।
অসুবিধা এড়ানোর গোপনীয়তা
ইমেইল পাবলিক রাখলে স্প্যাম, ফোন নম্বর পাবলিক থাকলে কল/এসএমএস হারাসমেন্ট। চ্যাটে সবসময় অনলাইন দেখাবে না—ফ্রেন্ড লিস্ট দিয়ে কন্ট্রোল করো।
অপরাধ ও আইডেন্টিটি থেফট প্রতিরোধ
নাম, জন্মদিন, মায়ের কন্যা নাম, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর গোপন রক্ষা করো। অন্য কারো নামে অ্যাকাউন্ট খুলে ক্রেডিট রেটিং বাঁচাতে পারে। برেক-ইন প্রতিরোধে: আউট অফ টাউন পোস্ট করো না যদি ঠিকানা পাবলিক থাকে।
প্রতিষ্ঠার গোপনীয়তা
অনলাইনে কিছু পোস্ট করার আগে ভাবো: দাদামা খারাপ লাগবে, স্কুল থেকে বের হয়ে যাবে, চাকরি পাওয়া যাবে না, আচরণালোचना হবে, ভবিষ্যতের партনার খারাপ মনে করবে। একবার অনলাইনে গেলে কখন ফিরে আসবে জানা নেই।
সাইবার বুলিং প্রতিরোধ
কেউ মন্তব্যে ত্রাস দিলে ব্লক করো। বাধা দিলে বয়স্কদের (পুলিশও) সাহায্য নাও। হারাসমেন্ট অপরাধ।
প্রবেশ করানো গোপনীয়তা লঙ্ঘন
অজানা লোক ভালো লোক হয়ে ফ্রেন্ড লিস্টে যোগ হয় বা তোমার বন্ধু হয়ে ফাঁস দেয়। কেউ বন্ধু দাবি করলে ফোন করো বা কঠিন প্রশ্ন করো। সন্দেহ হলে অ্যাড করো না।
স্ট্রেঞ্জার ডেঞ্জার: অজানা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট/মেসেজ ব্লক করো। সময় বাদ দাও না।
ছবি গোপন রাখা
নিজের ছবি আপলোডের সময় প্রাইভেসি 'Friends' বা 'Close Friends' রাখো। বন্ধুর তোলা ছবিতে তোমার নিয়ন্ত্রণ কম। অশ্লীল/দোষدار ছবি তোলা দেয়া না। তোললে মুছে ফেলতে বলো।
ট্যাগিং সেটিংসে 'Review tags before they appear on your timeline' অন করো। ট্যাগ করা পোস্ট কে দেখবে সেটি কন্ট্রোল করো।
ছবি কত দ্রুত ভাইরাল হয় সেটি বুঝতে পারো না। এক শিক্ষক ক্লাসে দেখিয়েছিল—তোমার সাথে না হোক।
গোপনীয়তা ও মার্কেটিং
লাইক করা পেজ, লোকেশন, বয়স, লিঙ্গ, সম্পর্ক—সব মার্কেটিং টার্গেটিংয়ে ব্যবহৃত হয়। বাস্তব জীবনে যা পছন্দ সেটি ফেইসবুকে লাইক করো না।
সম্ভাব্য ফাঁদ
পাবলিক পোস্টে কমেন্ট করলে সেটি সবাই দেখে। কম্পিটিশনে ইমেইল/ফোন দেয়ার আগে চিন্তা করো—তাদের কি করবে? ডেডিকেটেড ইমেইল বা পেরেন্টসের নম্বর ব্যবহার করো। পাবলিক গ্রুপ ভাব চেয়ে বেশি পাবলিক।
আরও পড়ুন
Lol... OMG! What Every Student Needs to Know about Online Reputation Management, Digital Citizenship and Cyberbullying — ম্যাট আইভেস্টার। কমেন্টে অভিজ্ঞতা শেয়ার করো।
ছবি ক্রেডিট: শাটারস্টক