নেটওয়ার্ক সিকিউরিটিতে এক্টিভ এবং প্যাসিভ আক্রমণ কী?
নেটওয়ার্ক সিকিউরিটির প্রসঙ্গে, আক্রমণ দুটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করা যায়: এক্টিভ (সক্রিয়) এবং প্যাসিভ (নিষ্ক্রিয়)। এক্টিভ আক্রমণে, আক্রমণকারী ডেটা বা মেসেজের কন্টেন্ট পরিবর্তন করার চেষ্টা করে। অন্যদিকে, প্যাসিভ আক্রমণে আক্রমণকারী শুধু মেসেজগুলি বাধা দেয় এবং কপি করে, কিন্তু তাদের পরিবর্তন করে না।
প্যাসিভ আক্রমণ রোধের পদ্ধতিগুলি কী কী?
শক্তিশালী নেটওয়ার্ক এনক্রিপশন প্যাসিভ আক্রমণ প্রতিরোধের সেরা উপায়। প্রেরকীয় প্রান্তে মূল মেসেজকে একটি অনবোধগম্য ভাষায় এনকোড করা হয় এবং প্রাপক প্রান্তে তা ডিকোড করে বোঝার যোগ্য করে তুলা হয়। এছাড়া, নেটওয়ার্ক ট্রাফিক নিরীক্ষণ এবং অসামान्य গতিবিধি সনাক্ত করার জন্য আইডিএস/আইপিএস (IDS/IPS) ব্যবহার করা যেতে পারে।
এক্টিভ এবং প্যাসিভ আক্রমণ ভেক্টরের সাদৃশ্য কী?
এক্টিভ এবং প্যাসিভ উভয় আক্রমণই সিস্টেমের সিকিউরিটিকে প্রভাবিত করে। এক্টিভ আক্রমণে মেসেজের কন্টেন্ট পরিবর্তন করার চেষ্টা করা হয়, যখন প্যাসিভ আক্রমণে আক্রমণকারী শুধু পর্যবেক্ষণ করে, কপি করে এবং হয়তো সেই তথ্যগুলো কুৎসিত উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে।
এক্টিভ এবং প্যাসিভ আক্রমণের পার্থক্য কী?
| ক্রমিক নং | এক্টিভ আক্রমণ | প্যাসিভ আক্রমণ |
|---|---|---|
| ১ | ইন্টিগ্রিটি (অখণ্ডতা) এবং অভailability (উপলব্ধতা) এর জন্য হানিকর | কনফিডেনশিয়ালিটি (গোপনীয়তা) এর জন্য হানিকর |
| ২ | শিকার ব্যক্তি আক্রমণের বিষয়ে জানতে পারে | শিকার ব্যক্তি আক্রমণের বিষয়ে জানতে পারে না |
| ৩ | সিস্টেমের সেবা বাধা পায় | সিস্টেম বা নেটওয়ার্ক থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয় |
প্যাসিভ আক্রমণ প্রতিরোধে কোন কৌশল ব্যবহার করা হয়?
প্যাসিভ আক্রমণ সনাক্ত করা কঠিন কারণ এতে ডেটা পরিবর্তন হয় না। প্রেরক বা প্রাপক কেউই জানতে পারেন না যে তাদের মেসেজ বাধা দেওয়া হচ্ছে। ডেটা এনক্রিপশন এই সমস্যার সমাধান। WPA2/WPA3 এনক্রিপশন স্ট্যান্ডার্ড ব্যবহার করা উচিত।
প্যাসিভ আক্রমণের প্রকারভেদ কী কী?
প্রধানত দুটি ধরনের প্যাসিভ আক্রমণ রয়েছে:
- ট্রাফিক অ্যানালিসিস (Traffic Analysis): নেটওয়ার্ক ট্রাফিকের প্যাটার্ন, পরিমাণ এবং টাইমিং বিশ্লেষণ করে গোপন তথ্য বের করা।
- মেসেজ কন্টেন্ট রিলিজ (Release of Message Contents): টেলিফোনি বা ইমেইল রেকর্ডিং, এনক্রিপ্টেড ডেটা ফ্লো বাধা দেওয়া এবং ডিক্রিপ্ট করার চেষ্টা, স্ক্যানিং অপারেশন ইত্যাদি।
এক্টিভ আক্রমণের উদাহরণ কী কী?
এক্টিভ আক্রমণের কিছু প্রমুখ উদাহরণ:
- ম্যান-ইন-দ-মিডিল আক্রমণ (MitM)
- ইম্পারসোনেশন আক্রমণ (Impersonation)
- সেশন হাইজ্যাকিং (Session Hijacking)
- রিপ্লে আক্রমণ (Replay Attack)
- ডিনায়াল অফ সার্ভিস (DoS/DDoS)
- ম্যাস্কারেডিং (Masquerading) - অন্য কারো পরিচয় ধারণ করা
এক্টিভ আক্রমণের তিনটি প্রধান ধরন কী?
- ম্যাস্কারেডিং (Masquerading): এক এন্টিটি অন্য এন্টিটির পরিচয় ধারণ করে।
- মেসেজ মডিফিকেশন (Message Modification): ডেটা বা মেসেজের কন্টেন্ট পরিবর্তন করা।
- রিপডিয়েশন (Repudiation) এবং রিপ্লে (Replay): কোনো কাজ করার অস্বীকৃতি জানানো বা পুরনো কমিউনিকেশন পুনরাবৃত্তি করা।