VPN বা ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ অ্যানোনিমিটি রক্ষা করে নেট সার্ফিং করার একটি চমৎকার উপায়। একবার VPN থাকলে কেউ আপনার ওয়েব কার্যকলাপে অ্যাক্সেস করতে পারবে না। জিও-রেস্ট্রিক্টেড কনটেন্টও সম্পূর্ণ স্বাধীনতাতেই বাইপাস করা যায়। VPN হলো অপরিহার্য। এই ব্লগে আমরা একটি সাধারণ সমস্যায় আলোচনা করব: VPN ইন্টারনেট গতি ধীর করলে কী করতে হবে?
শুরু করি VPN নির্বাচন থেকে। একটি ভালো VPN খুব কমই দ্রুত গতি ও উচ্চ নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়। আমরা কিছু সেরা VPN-এর তালিকা তৈরি করেছি। এই ব্লগের জন্য Systweak VPN বেছে নিচ্ছি, যা বিশ্বস্ত, নিরাপদ ও দ্রুত VPN খুঁজলে বুদ্ধিমানের পছন্দ।
Systweak VPN-এর বিস্তারিত রিভিউ এখানে পাবেন।

VPN ব্যবহার করে VPN গতি কীভাবে বেড়াবেন?
নিচে দেওয়া হলো VPN ইন্টারনেট ধীর করার কারণ এবং গতি বেড়ানোর উপায়:
|
১. এনক্রিপশন প্রোটোকল পরিবর্তন করুন ২. ভালো একটি সার্ভার লোকেশন বেছে নিন ৩. আপনার ডিভাইস বা রাউটার রিস্টার্ট করুন ৪. কম্পিউটারের ফায়ারওয়াল ও এন্টিভাইরাস চেক করুন ৫. কিছুক্ষণ Wi-Fi ছাড়া ওয়ায়ার্ড কানেকশন ব্যবহার করুন ৬. শেষ উপায় হিসেবে VPN রিইনস্টল করুন |
১. এনক্রিপশন প্রোটোকল পরিবর্তন করুন

সহজ ভাষায়, আপনার সংযোগ নিরাপদ করার জন্য VPN সার্ভিস কিছু এনক্রিপশন প্রোটোকল অফার করে। এগুলো নিরাপত্তা দেয়, কিন্তু ব্যান্ডউইথও বেশি ব্যবহার করে। প্রোটোকল যত জটিল, তত বেশি ব্যান্ডউইথ খায়।
আপনি মাঝপথের নিরাপত্তা ও গ্রহণযোগ্য গতি দিতে এমন একটি প্রোটোকল বেছে নিতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, PPTP, L2TP ও OpenVPN-এর মধ্যে OpenVPN বেছে নেওয়া ভালো। Systweak VPN-এ আপনি এনক্রিপশন লেভেল (সাইফার ও পোর্ট)ও বেছে নিতে পারেন।
২. ভালো একটি সার্ভার লোকেশন বেছে নিন

নিয়ম thường: আপনার ভৌগলিক অবস্থানের কাছের সার্ভার বেছে নিন। কারণ সার্ভার যত নিকট, ব্যান্ডউইথ হারানোর সম্ভাবনা তত কম। অধিকাংশ VPN স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্রুততম সার্ভার বেছে দেয়, অর্থাৎ আপনার দেশ বা আপনার কাছাকাছি লোকেশন বেছে নেয়।
৩. আপনার ডিভাইস বা রাউটার রিস্টার্ট করুন
VPN জটিল এনক্রিপশন প্রোটোকল ব্যবহার করে, তাই আপনার ডিভাইসের অপারেটিং সিস্টেমের সাথে এর দ্বন্দ্ব হতে পারে। একটি সাধারণ সফটওয়্যার সমস্যাই VPN-কে ধীর করতে পারে। সহজ সমাধান: কম্পিউটার/ট্যাবলেট/স্মার্টফোন রিস্টার্ট করুন। রাউটার রিস্টার্ট করে আবার VPN-এ কানেক্ট করার চেষ্টা করুন।
৪. কম্পিউটারের ফায়ারওয়াল ও এন্টিভাইরাস চেক করুন

VPN ধীর হলে আসল সমস্যাটি VPN নয়, বরং আপনার PC-তে ইনস্টল করা ফায়ারওয়াল বা এন্টিভাইরাস হতে পারে। এন্টিভাইরাস বা ফায়ারওয়াল আনইনস্টল করবেন? না, এটি সুপারিশ করা হয় না, কারণ তখন আপনার কম্পিউটার অ্যাডওয়্যার, র্যানসমওয়্যার, ম্যালওয়্যার ও ভাইরাস আক্রমণের লক্ষ্য হয়ে যাবে।
প্রথমে জানুন কেন এন্টিভাইরাস বা ফায়ারওয়াল VPN গতির সাথে দ্বন্দ্ব করে? এন্টিভাইরাস বা ফায়ারওয়াল বারবার VPN ডেটা প্যাকেট নিরাপত্তা চেক করে, যা গতি কমিয়ে দেয়।
তবে এন্টিভাইরাস বন্ধ না করেই VPN গতি বেড়ানো যায়। প্রায় সব বড় এন্টিভাইরাসে এক্সসেপশন বা বাদ দেওয়ার অপশন থাকে। সেখানে VPN অ্যাপটি যোগ করলে স্ক্যান বাইপাস হবে এবং VPN গতি কমবে না।
৫. কিছুক্ষণ Wi-Fi ছাড়া ওয়ায়ার্ড কানেকশন ব্যবহার করুন

VPN-এর গতি আপনার Wi-Fi সিগনালের ওপরও নির্ভর করে। VPN ধীর হলে কসুরওয়ার Wi-Fi সিগনাল হতে পারে। আজকের যুগে Wi-Fi ছাড়া কী সম্ভব? 시설 সুবিধা নাই, কিন্তু গতির জন্যে সম্ভবত হ্যাঁ। সাধারণত অনেক বস্তু Wi-Fi সিগনাল বাধা দেয়—বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন, দেয়াল, ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি।
দুটি কাজ করতে পারেন: পোর্ট থাকলে ইথারনেট ক্যাবল ব্যবহার করুন। অথবা Wi-Fi ব্যবহারই করতে চাইলে রাউটারের কাছাকাছি যান।
৬. শেষ উপায় হিসেবে VPN রিইনস্টল করুন
হালকা গ্লিচের কারণে গতি কমতে পারে। সেক্ষেত্রে VPN আবার ইনস্টল করে দেখুন। Systweak VPN-এর মতো নির্ভরযোগ্য VPN-এ গতি কমার সম্ভাবনা খুব কম।
প্রশ্নোত্তর
VPN কি ইন্টারনেট ধীর করে?
উত্তর: খুব কম। ইন্টারনেট গতি কমার পেছনে অনেক কারণ থাকে—সার্ভার লোকেশন, CPU শক্তি, VPN-এর সিকিউরিটি প্রোটোকল ইত্যাদি। শুধু VPN দায়ী নয়।
VPN ইন্টারনেট ধীর করছে কিনা কীভাবে যাচাবেন?
প্রথমে VPN বন্ধ করে ISP-র মাধ্যমে নেট ব্রাউজ করুন এবং স্পিড টেস্ট করুন। ফলাফল নোট করুন। এবার VPN অন করে আবার স্পিড টেস্ট করুন। যদি ISP-র কমিটমেন্ট (যেমন ১০০ Mbps-র বদলে ৪৫ Mbps) থেকে কম পান, তবে ISP থ্রটলিং করছে। আর যদি VPN-র কারণে কম হয়, তবে উপরের টিপসগুলো ফলো করুন।
VPN ব্যবহার করে ইন্টারনেট গতি কীভাবে বেড়াবেন?
VPN কানেক্ট করার পর গতি কমলে উপরের হ্যাকগুলো—সার্ভার নিকটবর্তী লোকেশনে পরিবর্তন, উপযুক্ত সিকিউরিটি প্রোটোকল বেছে নেওয়া ইত্যাদি চেষ্টা করুন।
আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলো করুন—Facebook ও YouTube। কোনো প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে কমেন্টে জানান।