কম্পিউটার টিউটোরিয়াল

উইন্ডোজ ১১ পিসিতে ক্যালেন্ডার অ্যাপ ব্যবহার করার পূর্ণ গাইড

উইন্ডোজ ১১-এর নিজস্ব ফিচার-সম্পন্ন ক্যালেন্ডার অ্যাপ আপনাকে ইভেন্ট, টাস্ক, মিটিং ইত্যাদি শিডিউল করে সংগঠিত থাকতে সাহায্য করে। অ্যাপটির শর্টকাট টাস্কবারের ডান কোণে থাকে। টাস্কবারের টাইম ও ডেট আইকনে ক্লিক করলে ক্যালেন্ডার ফ্লাইআউট একটি ছোট উইন্ডোতে পপ-আপ হবে। তবে নতুন উইন্ডোজ ১১ ওএসে এই ফ্লাইআউট থেকে ইভেন্ট ইন্টিগ্রেশন ফিচারটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

উইন্ডোজ ১১ পিসিতে ক্যালেন্ডার অ্যাপ ব্যবহার করার পদ্ধতি

ক্যালেন্ডার অ্যাপ অফলাইন কাজ করে কিন্তু গুগল ক্যালেন্ডার, আইক্লাউড ইত্যাদির সাথে সিঙ্ক করার জন্য মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্টে সাইন-ইন করতে হয়। আজ এই পোস্টে উইন্ডোজ ১১ পিসিতে ক্যালেন্ডার অ্যাপ ব্যবহার করার বিস্তারিত টিউটোরিয়াল শেয়ার করা হলো।

  1. উইন্ডোজ ১১ পিসিতে ক্যালেন্ডার অ্যাপ কীভাবে খুলবেন
  2. ক্যালেন্ডার অ্যাপে ইভেন্ট কীভাবে তৈরি করবেন
  3. ইভেন্টে বিস্তারিত বিবরণ ও লোকজন যোগ করুন
  4. ক্যালেন্ডার যোগ করুন
  5. উইন্ডোজ ১১ পিসিতে ক্যালেন্ডার অ্যাপ দিয়ে দিনব্যদিন পরিকল্পনা করুন
  6. ক্যালেন্ডার অ্যাপ ডিভাইসগুলোর সাথে কীভাবে সিঙ্ক করবেন
  7. আপনার ক্যালেন্ডার অ্যাপ পারসোনালাইজ করুন
  8. উইন্ডোজ ১১ পিসিতে ক্যালেন্ডার সেটিংস কীভাবে এডজাস্ট করবেন

১] উইন্ডোজ ১১ পিসিতে ক্যালেন্ডার অ্যাপ কীভাবে খুলবেন

টাস্কবারের ডেট ও টাইম আইকনে ক্লিক করে ক্যালেন্ডার দ্রুত খোলা যায়, কিন্তু সম্পূর্ণ ক্যালেন্ডার অ্যাপ খোলার জন্য উইন্ডোজ সার্চে Calendar টাইপ করুন। অ্যাপটি খুলে ইভেন্ট তৈরি ও एজেন্ডা ম্যানেজ করা শুরু করুন। চাইলে ক্যালেন্ডার অ্যাপকে স্টার্ট মেনু ও টাস্কবারে পিন করে রাখতে পারেন।

এটি একটি সহজ ও ইউজার-ফ্রেন্ডলি অ্যাপ। এক পাশে ক্যালেন্ডার দেখা যায় আর বাম প্যানেলে অ্যাডেড ক্যালেন্ডার, বার্থডে ও হ olidays দেখা যায়।

২] ক্যালেন্ডার অ্যাপে ইভেন্ট কীভাবে তৈরি করবেন

ক্যালেন্ডার অ্যাপ খোলার পর ইভেন্ট তৈরি করুন। সিম্পলি যে ডেটে ইভেন্ট তৈরি করতে চান সেটিতে ক্লিক করুন, একটি ছোট পপ-আপ উইন্ডো আসবে। প্রয়োজনীয় বিবরণ যেমন ইভেন্টের নাম, ডেট ও টাইম, রিমাইন্ডার টাইমিং পূরণ করে Save-এ ক্লিক করুন। ইভেন্টটি আপনার ক্যালেন্ডারে তৈরি হয়ে যাবে।

তैयার ইভেন্টে ক্লিক করলে সম্পূর্ণ বিবরণ দেখা যাবে। আপনার দেওয়া টাইমিং অনুযায়ী রিমাইন্ডার আসবে। আপনি চাহলে ক্যালেন্ডার অ্যাপে যত ইচ্ছে তত ইভেন্ট তৈরি করতে পারেন। বার্থডে ইভেন্টও একইভাবে তৈরি করা যায়।

৩] ইভেন্টে বিস্তারিত বিবরণ ও লোকজন যোগ করুন

ইভেন্ট তৈরি করার সময় More Details-এ ক্লিক করলে আপনি ইভেন্টের বর্ণনা যোগ করতে পারেন, লোকজন যোগ করতে পারেন, অনলাইন মিটিং তৈরি করতে পারেন এবং আমন্ত্রণ পাঠাতে পারেন।

৪] ক্যালেন্ডার যোগ করুন

নিচে বাম কোণে Add Calendars বাটনটি থাকবে। সেটিতে ক্লিক করলে যেকোনো দেশের হোলিডে ক্যালেন্ডার যোগ করা যাবে। দেশ সিলেক্ট করলেই সেই দেশের সকল জাতীয় ছুটি আপনার ক্যালেন্ডার অ্যাপে অটোমেটিক্যালি যোগ হয়ে যাবে। এছাড়া TV, MLB, NBA, NFL, NHL-এর ক্যালেন্ডারও এখান থেকে যোগ করা যায়।

৫] উইন্ডোজ ১১ পিসিতে ক্যালেন্ডার অ্যাপ দিয়ে দিনব্যদিন পরিকল্পনা করুন

শুধু ইভেন্ট ও বার্থডে যোগ করা নয়, এই অ্যাপ আপনার পুরো দিন সুন্দরভাবে পরিকল্পনা করতে সাহায্য করে। এটি আপনার ডিজিটাল ডায়ারির মতো কাজ করে যেখানে আপনি পুরো দিনের এজেন্ডা ফিক্স করতে পারেন এবং রিমাইন্ডার যোগ করতে পারেন যাতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপয়েন্টমেন্ট মিস না হয়। উপরের মেনু রিবন থেকে দিন সিলেক্ট করুন এবং পুরো দিনের এজেন্ডা পূরণ করুন। সপ্তাহিক বা মাসিক ভাবেও ডিটেইলস যোগ করা যায়। অ্যাপে সব ইভেন্টের জন্য আলাদা আলাদা আইকন রয়েছে - উদাহরণস্বরূপ লাঞ্চ বা ব্রেকফাস্টের এন্ট্রির জন্য কাটারি/বাতিয়ালের আইকন, ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য ডাক্তারের চিহ্ন।

৬] ক্যালেন্ডার অ্যাপ ডিভাইসগুলোর সাথে কীভাবে সিঙ্ক করবেন

অ্যাপটি আপনার ডিভাইসগুলোর সাথে এবং গুগল ক্যালেন্ডার বা আউटलুক ক্যালেন্ডারের মতো অন্যান্য ক্যালেন্ডার অ্যাপের সাথে সিঙ্ক করতে হলে একাউন্ট যোগ করতে হবে। অ্যাপের বাম প্যানেলের কোণে থাকা সেটিংস আইকনে ক্লিক করুন। Manage accounts-এ ক্লিক করুন।

Add Account-এ ক্লিক করুন এবং উইন্ডোজ পিসিতে ক্যালেন্ডার অ্যাপের সাথে সিঙ্ক করতে চাওয়া একাউন্টটি যোগ করুন। সেটি দিয়ে সাইন-ইন করুন এবং উইন্ডোজকে পারমিশন দিন। তাহলে একাউন্টটি আপনার ক্যালেন্ডার অ্যাপে যোগ হয়ে যাবে এবং সকল ক্যালেন্ডার অ্যাপে তৈরি ইভেন্টগুলো একসাথে মার্জ হয়ে যাবে, যা আপনার কাজ সহজ করে দেবে।

৭] আপনার ক্যালেন্ডার অ্যাপ পারসোনালাইজ করুন

উইন্ডোজ ১১ খুব কাস্টমাইজেবল এবং এর অ্যাপগুলোও তেমনই। আপনার উইন্ডোজ ১১ পিসিতে ক্যালেন্ডার অ্যাপ পারসোনালাইজ করতে পারেন। ক্যালেন্ডার অ্যাপ খুলে বাম প্যানেলের সেটিংস আইকনে ক্লিক করুন। Personalization ট্যাবে ক্লিক করুন এবং আপনার ক্যালেন্ডারের রঙ পরিবর্তন করুন, লাইট মোড, ডার্ক মোড বা উইন্ডোজ মোডে পরিবর্তন করুন। Use my Windows mode অপশনটি আপনার কম্পিউটারের বর্তমান মোড (লাইট, ডার্ক বা কাস্টম) ব্যবহার করে। নিচের স্ক্রিনশটে Dark mode ব্যবহৃত হয়েছে। ক্যালেন্ডার অ্যাপে ব্যাকগ্রাউন্ড ইমেজ যোগ করার অপশনও রয়েছে।

৮] উইন্ডোজ ১১ পিসিতে ক্যালেন্ডার সেটিংস কীভাবে এডজাস্ট করবেন

নিচে বাম কোণে সেটিংস আইকনে ক্লিক করুন এবং ডান প্যানেল থেকে Calendar Settings সিলেক্ট করুন। এখান থেকে আপনার প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী ক্যালেন্ডার অ্যাপ সেটিংস কাস্টমাইজ ও কনফিগার করতে পারেন। আপনি সপ্তাহের প্রথম দিন, সপ্তাহে কাজ করার দিনগুলো, ওয়ার্কিং আওয়ার্স ইত্যাদি পরিবর্তন করতে পারেন। অল্টারনেট ক্যালেন্ডার যোগ করার অপশনও রয়েছে।

এই ছিল আপনার উইন্ডোজ ১১ পিসিতে ক্যালেন্ডার অ্যাপের কিছু বেসিক বিবরণ।

উইন্ডোজ ১০ ব্যবহারকারীদের জন্য: এই পোস্টে দেখুন উইন্ডোজ ১০-এ ক্যালেন্ডার অ্যাপ কীভাবে ব্যবহার করবেন।

উইন্ডোজ ১১-এ ক্যালেন্ডার আছে কিনা?

হ্যাঁ, আছে। উইন্ডোজ ১১-এর সব নতুন লুক ও ইন্টারফেসের সাথে ক্যালেন্ডার অ্যাপটিও এখন নতুন ফিচার ও লুকে সজ্জিত।

উইন্ডোজ ১১-এ ক্যালেন্ডার কীভাবে খুলবেন?

টাস্কবারের চরম ডান কোণে দেখানো ডেট ও টাইমে ক্লিক করলে ছোট ক্যালেন্ডার পপ-আপ হিসেবে খুলবে। সম্পূর্ণ অ্যাপ লঞ্চ করতে উইন্ডোজ সার্চ অপশনে Calendar টাইপ করুন।

পরবর্তী পড়ুন: উইন্ডোজ ১১/১০-এর জন্য সেরা ফ্রি ক্যালেন্ডার অ্যাপস।

  1. উইন্ডোজে গ্রামার্লি ব্যবহার করুন: পিসি ব্যবহারকারীদের জন্য ধাপে ধাপে গাইড

  2. উইন্ডোজ ১০-এ গুগল সার্ভিসেস অ্যাক্সেস করুন – ধাপে ধাপে গাইড

  3. টাস্কবার থেকে সরাসরি Windows 10 ক্যালেন্ডার অ্যাক্সেস: ধাপে ধাপে গাইড

  4. উইন্ডোজ ১০ের Your Phone অ্যাপ দিয়ে ফটো ও ফাইলস সিমলেসলি সিঙ্ক করুন