ডিস্ক স্পেস শেষ হয়ে গেলে উইন্ডোজ ফোল্ডার থেকে কী ডিলিট করা যায় তা জানতে চাইলে এই পোস্ট আগে পড়ুন। C ড্রাইভ ফুল হলে বা উইন্ডোজ ফোল্ডার বেশি স্পেস নিলে লো স্টোরেজ ওয়ার্নিংয়ের জন্য কষ্ট হয়। স্বাভাবিক ردওয়্যাকশন: উইন্ডোজ ফোল্ডারে ঘুরে বড় ফাইল খুঁজে বুঝামাত্র ডিলিট করা।
সঠিক পদ্ধতি: উইন্ডোজ ফোল্ডার থেকে সরাসরি কিছুই ডিলিট করবেন না। স্পেস খাওয়া ফাইল থাকলে Disk Cleanup Tool বা Storage Sense ব্যবহার করুন। এই বিল্ট-ইন টুলগুলো কাজ করবে। তবে আপনি যদি ম্যানুয়ালি করতে চান, তবে নিচের গাইড ফলো করুন!
উইন্ডোজ ফোল্ডার থেকে কী ডিলিট করা যায়
নোট: শুধু উইন্ডোজ ফোল্ডারের ভিতরের ফাইল বিবেচনা করা হয়েছে, বাহিরের কিছু নয়। শুরু করার আগে সিস্টেম রিস্টোর পয়েন্ট তৈরি করুন। সিস্টেম রিস্টোর পয়েন্টের স্পেস বাঁচাতে চাইলে System Restore ডিজেবল করুন—যদিও আমরা এর পরামর্শ দিই না।
ডিস্ক স্পেস অ্যানালাইজার ফ্রিয়ওয়্যার ব্যবহার করে উইন্ডোজ ফোল্ডারে কী স্পেস নিচ্ছে তা জানুন। Storage Sense Settings-এ যেতে পারেন বুঝতে কী স্পেস নিচ্ছে।
১] উইন্ডোজ টেম্পোরারি ফোল্ডার
Temporary folder: C:\Windows\Temp। উইন্ডোজ এখানে ফাইল ডাউনলোড করে এবং তারপর সঠিক জায়গায় মুভ করে। এখান থেকে সব ডিলিট করলেও সমস্যা নেই—সিস্টেম আবার ডাউনলোড করবে যখন ফাইল মিসিং পাবে।
২] হাইবারনেশন ফাইল
Hibernate file (hiberfil.sys) উইন্ডোজ OS-এর বর্তমান স্টেট রাখে। এটি সাধারণত র্যামের ৭০%-৮০% সাইজের। ৬-৮ GB র্যাম থাকলে ৪-৬ GB স্পেস নেয়।
ডিলিট করতে: হিডেন সিস্টেম ফাইল অপশন এনেবল করে উইন্ডোজ ফোল্ডারে লোকেট করুন। অথবা হাইবারনেশন সম্পূর্ণ ডিজেবল করুন যদি দরকার নেই। Command Prompt-এ powercfg.exe /hibernate off চালান।
৩] Windows.old ফোল্ডার
এটি উইন্ডোজ ফোল্ডারের ভিতরে নয়, কিন্তু পুরনো উইন্ডোজ ফোল্ডারের কপি। নতুন উইন্ডোজ ইনস্টল বা আপডেট করলে সকল এক্সিস্টিং ফাইল Windows.old-এ থাকে। প্রিভিয়াস ভার্সনে রিস্টোর করতে চাইলে কাজে আসে।
এটি খুব স্পেস নেয়। আর দরকার না থাকলে নিশ্চিন্তে ডিলিট করুন।
৪] Downloaded Program Files
লোকেশন: C:\Windows\Downloaded Program Files। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার এবং ActiveX বা জাভা টেক ব্যবহার করা প্রোগ্রামের ডাউনলোডেড ফাইল এখানে থাকে। এই টেকনোলজিগুলো এখন পুরনো, তাই সব ডিলিট করলেও সমস্যা নেই।
৫] Prefetch
Prefetch ফোল্ডারের কন্টেন্ট ডিলিট করা যায়, কিন্তু সময়ের সাথে সেটি আবার পপুলেট হয়ে যাবে।
৬] Fonts
অনাবশ্যক ফন্ট আনইনস্টল করে Fonts ফোল্ডারের সাইজ কমানো যায়।
৭] SoftwareDistribution ফোল্ডার
SoftwareDistribution ফোল্ডারের কন্টেন্ট ডিলিট করা যায়, কিন্তু উইন্ডোজ আপডেট চালালে আবার পপুলেট হয়ে যাবে।
৮] Offline Web Pages
Offline Web Pages ফোল্ডারের কন্টেন্ট ডিলিট করা যায়।
৯] WinSxS ফোল্ডার
এই ডিরেক্টরি ডিলিট বা মুভ করা যাবে না। এখান থেকে কিছু ডিলিট করাও উচিত নয়—এটি আপনার অ্যাপ্লিকেশন ব্রেক করে দিতে পারে বা সিস্টেম ব্রেক করতে পারে! অনেক অ্যাপ ইনস্টল থাকলে WinSxS ফোল্ডার জাম্বো সাইজের হয়। এটি সিস্টেম ভলিউম ছাড়া অন্য ভলিউমে থাকতে পারে না (NTFS hard links-এর কারণে)। মুভ করলে উইন্ডোজ আপডেট, সার্ভিস প্যাক, ফিচার ইনস্টল ঠিকমতো হয় না। ম্যানিফেস্ট বা অ্যাসেম্বলি ডিলিট করলে বড় সমস্যা হয়।
Command /AnalyzeComponentStore চালিয়ে WinSxS ফোল্ডার অ্যানালাইজ করুন—Component Store Cleanup প্রয়োজন কিনা জানতে পারবেন।
সরাসরি ডিলিট না করে DISM ক্লিনআপ কমান্ড ব্যবহার করুন:
Dism.exe /online /Cleanup-Image /StartComponentCleanup
StartComponentCleanup প্যারামিটার অপ্রয়োজনীয় ফাইল ক্লিন করে দেয় এবং যেটি রাখা উচিত সেটি রাখে।
Windows 11/10/8.1/8-এ Disk Cleanup Tool খুলে Windows Update Cleanup অপশন ব্যবহার করুন WinSxS ক্লিন করতে। উইন্ডোজ ৭-এও মাইক্রোসফট আপডেট দিয়ে এই অপশন যোগ করেছে। Windows Server-এও WinSxS ক্লিনআপ করা যায়।
১০] Compact Windows OS ব্যবহার করুন
এটি শুধু ফোল্ডার নয়, একটি কমান্ড যা উইন্ডোজ ১০ ইনস্টলেশনের সামগ্রিক স্টোরেজ স্পেস কমাতে সাহায্য করে। Compact OS এক্সিকিউট করলে সিস্টেম কমপ্রেসড ফাইল থেকে রান করে (WIMBoot-এর মতো)। এটি ছোট স্টোরেজ वाले ডিভাইসের জন্য ডিজাইন করা। নোট: COMPACT কমান্ড রান করলে ২০-৩০ মিনিট লাগতে পারে কমপ্রেস বা ডিকমপ্রেস করতে।
শেষে Recycle Bin খালি করা ভুলবেন না!
উইন্ডোজ ডিরেক্টরি থেকে কোনো ফাইল ডিলিট করার আগে স্পষ্ট ধারণা থাকা উচিত। বুদ্ধিমানীপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিন। সন্দেহ হলে ডিলিট করবেন না!